আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা আক্রান্ত হলে শিশুদের যেসব জটিলতা দেখা দেয়

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ কেউই নিস্তার পাচ্ছেন না। প্রাথমিকভাবে ভাইরাসটি মানবসভ্যতার কাছে অজানা হওয়ায় সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি, জটিলতা, প্রতিকার প্রভৃতি সম্পর্কে বিশদ ধারণা ছিল না। পরবর্তীতে যেমন কোভিড-১৯ এর নতুন নতুন রূপভেদ, লক্ষণ, জটিলতা ইত্যাদি শনাক্ত হয়েছে; তেমনি এর প্রতিরোধকল্পে সর্বাধিক কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টাও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একেবারে শুরুর দিকে ধারণা করা হয়েছিল, সংক্রমণটি প্রধানত বয়স্কদেরই হয়ে থাকে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন জটিল রূপ ধারণ করে।

কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণজনিত নানাবিধ জটিলতা তৈরি করতে পারে। মাল্টি সিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিন্ড্রোম-সি হলো শিশুদের করোনাভাইরাস সংক্রমণের এমনই একটি দুর্লভ কিন্তু জটিলতর রূপ।

তবে সব করোনা সংক্রমিত শিশুরই যে এ ধরনের জটিলতা দেখা দেয়, বিষয়টি কিন্তু এমন নয়। কী কী কারণে কোনো কোনো করোনা সংক্রমিত শিশু মাল্টি সিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে এখনো বিস্তর গবেষণা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাস আক্রমণের পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা একটু দেরিতে এবং প্রয়োজনের অত্যধিক আকস্মিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে কোনো কোনো শিশুর শরীরে এ ধরনের বিরল ও বিপজ্জনক জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এ জটিলতায় আক্রান্ত মুষ্টিমেয় কিছু শিশুকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখারও প্রয়োজন পড়ছে।

এ ধরনের জটিলতার জন্য সাম্প্রতিক কিংবা চলতি সময়ে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত শিশুর শরীরের দুই বা ততোধিক অঙ্গ যেমন- হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, বৃক্ক, চোখ, পরিপাকঅঙ্গ, চামড়া ইত্যাদিতে প্রদাহ দেখা দেয় এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন- সিআরপি, ইএসআর, ফেরিটিন, প্রোক্যালসিটোনিন, ডি-ডাইমার ইত্যাদির মাধ্যমেও এ প্রদাহের উপস্থিতি প্রমাণ করা যায়। অথবা কোনো শিশু যদি বিগত চার সপ্তাহের মাঝে কোনো সম্ভাব্য কিংবা নিশ্চিত করোনা সংক্রমিত রোগির সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে এবং বিভিন্ন অঙ্গে এ ধরনের প্রদাহের লক্ষণ দেখা যায়, তবে সেই শিশুও মাল্টি সিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত বলে ধারণা করা যায়। সাধারণত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু থেকে ষোলো বছর বয়সী টিনএজার পর্যন্ত জটিলতার এ নতুন ধারাটি পরিলক্ষিত করা হয়েছে।