আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাংবাদিক ফজলুল বারীর বড় ছেলে অমর্ত্য আর নেই

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারীর বড় ছেলে অমর্ত্য মারা গেছেন। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি।

বিষয়টি ফজলুল বারী নিজেই ফেসবুকে জানিয়েছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আপনারা সবাই ফোন করছেন। আমি কথা বলতে পারছি না বলে ফোন ধরছি না। আপনারা সবাই পাশে এসে বসছেন। পিঠে সান্ত্বনার হাত রাখছেন। আমি চোখ বন্ধ করে থাকছি। কথা বলার চেষ্টা করলে কান্নায় ঢেকে দিচ্ছে সবকিছু। আমাকে ক্ষমা করবেন। এমন হঠাৎ মৃত্যুর ফরেনসিক তদন্তে পুলিশ লাশ নিয়ে গেছে। লাশ পাবার পর সিডনির লকউড কবরস্থানে দাফনের আয়োজন করা হবে। আপনাদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা।’

সাংবাদিক ফজলুল বারীর ছেলের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন।

এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন লিখেছেন, ‘সকাল সকাল এত বড় ধাক্কা বিশ্বাস করা কঠিন আর বিশ্বাস হলে সহ্য করা কঠিন। আমাদের প্রিয় ফজলুল বারী ভাইয়ের বড় ছেলে অমর্ত্য মারা গেছে। ২১/২২ বছর বয়সের একটা ছেলে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে, এটা আসলে অবিশ্বাস্যই। বারী ভাইয়ের বড় ছেলের জন্মের সময় অমর্ত্য সেন নোবেল পুরস্কার পান। রবীন্দ্রনাথের পর নোবেলজয়ী প্রথম বাঙালি, যার সাথে আবার ঢাকার নিবিড় যোগাযোগ- সব মিলে অমর্ত্য তখন খুব আলোচনায়। বারী ভাই তার ছেলের নাম অমর্ত্য রেখে সেই সময়টাকে ধারণ করেছিলেন। মনে আছে, অমর্ত্যের প্রথম জন্মদিনের উৎসবে গিয়েছিলাম।

ইস্টার্ন প্লাজার উল্টাদিকে একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে হয়েছিল সেটা। বারী ভাই পায়ে হেঁটে সারা বাংলাদেশ ঘুরেছেন, সারাজীবন মানুষের জন্য করেছেন, অস্ট্রেলিয়া গিয়েও ভুলে যাননি প্রিয় প্রজন্মকে। সেই বারী ভাইয়ের কাঁধে এখন পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা। তিনি কীভাবে বইবেন জানি না। এই শোক আমারই সহ্য হচ্ছে না, বারী ভাই কীভাবে সইবেন জানি না। দুদিন আগে বারী ভাইয়ের জন্মদিনের ছবি শেয়ার করেছিলেন ভাবি। এমন হ্যান্ডসাম, তরতাজা ছেলে হারিয়ে গেলে বাবা-মা কীভাবে সইবে, জানি না। আমি আসলে কিচ্ছু জানি না। সব এলোমেলো লাগছে।

ঢাকায় আমার লোকাল গার্জিয়ান ছিলেন বারী ভাই। তার সাথে বিচিন্তা, প্রিয় প্রজন্ম এবং বাংলাবাজার পত্রিকায় কাজ করেছি। দিনের পর দিন তার ইস্কাটনের বাসায় থেকেছি। সাংবাদিকতার অলিগলি হাতে ধরে চিরিয়েছেন। মুক্তিকে তুলে আনার সময় বারী ভাই ও ভাবিও আমাদের সাথে কুমিল্লা গিয়েছিলেন। একটাই প্রার্থনা তারা যেন বেদনাভার সইতে পারেন।

অমর্ত্য শব্দের অর্থ স্বর্গীয় মানে মর্ত্যের নয়। স্বর্গ থেকে মর্ত্যে এসেছিল অমর্ত্য। দ্রুতই ফিরে গেল তার আসল জায়গায়। সেখানে শান্তিতে থাকিস বেটা।’

সাংবাদিক ফজলুল বারীর ছেলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সংগঠনটি।

ফজলুল বারী প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। নিয়মিত লিখছেন দেশের বিভিন্ন পত্রিকা এবং নিউজ পোর্টালে।