আজ ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনার কারণে সুন্দরবন পর্যটন শিল্পে ধস

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে চাইলে সুন্দরবন ভ্রমণ হতে পারে অন্যতম ভালো গন্তব্য।তবে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিশ্ব ঐতিহ্যের সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চলছে।

 

এতে করে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি চরম আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।কবে খুলবে সুন্দরবনের দ্বার জানা নেই কারোরই। সহসাই যে সে দ্বার খুলছে না, তা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

করোনা সঙ্কটে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ১৭ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেয়া হয়েছে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। আর গত ১৫ জুন থেকে ভারতের দক্ষিণ রায়ের ডেরা সুন্দরবনে যাতায়াত করছেন পর্যটকরা।

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন শিল্প বলতে বিশ্বখ্যাত নয়নাভিরাম সুন্দরবনকেই বোঝায়। সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্ন পেশায় জড়িত। সারা বছর দেশি-বিদেশি বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে সুন্দরবন উপকূল। তবে বর্ষার পরেই সাধারণত সুন্দরবনের পর্যটন মৌসুম শুরু।

 

সে হিসেবে, এখনই সময় শুরু প্রাকৃতিক নৈর্গিক সুন্দরবনের সৌন্দর্য্য উপভোগের।বন বিভাগের সূত্র মতে, করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত ১৯ মার্চ পুরো সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবন জুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার নির্দেশনা ছিল।

 

সুন্দরবনের ৯টি পর্যটন এলাকায় পর্যটন মৌসুমে (নভেম্বর থেকে মার্চে) কোনো কোনো দিন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ অবস্থান করেন।এদিকে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাজারি করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে থাকা দর্শনার্থীরা। চরম আর্থিক হুমকির মুখে পড়েন ট্যুর অপারেটর ও সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

 

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম জমাদ্দার জানান, কুয়াকাটাসহ দেশের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। সুন্দরবন খুলে দিলে কোনো সমস্যা নয়, বরং সরকারের রাজস্ব আয় হবে। সুন্দরবন কেন্দ্রিক ৭০টি ট্যুর কোম্পানির অর্ধশত জাহাজের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় পাঁচ মাস বেকার; চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন তারা।

 

মাত্র তিন থেকে চার মাস সুন্দরবনের পর্যটন মৌসুম; এরপর সারা বছর বসে বসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গুণতে হয়। সেই সময়টাতেই যদি পর্যটন বন্ধ থাকে, তাহলে একদিকে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হবে; অন্যদিকে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পটি বিধ্বস্ত হয়ে যাবে।তিনি আরও জানান, সুন্দরবন উপকূলের নোনা অঞ্চলের মানুষ কিন্তু প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল; করোনা সংক্রমণ এ অঞ্চলে অনেকটাই কম।

 

সে হিসেবে বলা যায়, সুন্দরবন অঞ্চল নিরাপদ। করোনায় গৃহবন্দী মানুষের অবসাদ কাটাতে অবিলম্বে সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াতের অনুমতির দাবি জানিয়েছেন তিনি।পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৯ মার্চ সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

 

 

তারপর এ বিষয়ে আর কোনো নির্দেশনা আসেনি। কবে নাগাদ আসবে, সেটাই মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে গত বছর এক লাখ ৭ হাজার ৩৮৪ জন পর্যটক সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন।

 

পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশির আল মামুন বলেন, গত অর্থ বছরে সুন্দরবনের পর্যটনখাতে ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৫০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে পর্যটনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।