আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পদ্মার গ্রাসে সর্বহারা ৩০ পরিবার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ ‘বাড়ির ভিটামাটি গাঙে গিল্লা খাইছে। অহোন বৌ-পুলাপাইন নিয়া রাস্তার ঢালে আছি। কেউ আইসা আমাগো কোনো খবরও নেয় না। কই থাকুম, কী করুম এই চিন্তায় খালি মাথা ঘুরপাক করে। রাইতে ঠিকমতো ঘুমাইতেও পারি না।’ কথাগুলো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতীরবর্তী বেপারীপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক মো. বাদুল্লা মন্ডলের।

 

নদীভাঙন শুরু হওয়ায় গত এক সপ্তাহে ওই গ্রামের ৩০টি পরিবারের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, স্কুল, কবরস্থানসহ অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখোমুখি হয়ে আছে কমিউনিটি ক্লিনিক, জামে মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি। সেখানে ভাঙনাতঙ্কে ভবিষ্যত চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে গ্রামবাসীর।গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত বেপারীপাড়া গ্রাম সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সেখানে পদ্মার ভাঙন তাণ্ডব চলছে। ভাঙন কবলে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন বসতবাড়ির ভিটেমাটি, ফসলি জমিসহ গাছপালা।

 

ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি ভেঙে, গাছপালা কেটে, পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে পারিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন অনেকেই।এলাকাবাসী জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ভাঙনের কবলে পড়ে বেপারীপাড়া গ্রামের ৩০টি পরিবারের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, স্থানীয় ১০নম্বর যদু মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবরস্থানসহ অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন হুমকির মুখোমুখি হয়ে আছে ওই গ্রামে অবস্থিত উত্তর দৌলতদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, বেপারীপাড়া জামে মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি।

 

১০ নম্বর যদু মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহার হোসেন বলেন, এই স্কুলটি ১৯৫০ সালে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের যদু মাতবরপাড়া গ্রামে প্রথম স্থাপিত হয়। স্থাপনের পর ২০ বছরে বেশ কয়েক বার নদীভাঙনের শিকার হওয়ায় স্কুলটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৯৭০ সালে বেপারীপাড়া গ্রামে স্থানান্তরের পর যদু মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু গত তিন দিন আগে ভাঙনের কবলে পড়ে মাঠসহ স্কুলের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

 

স্থানীয় দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান মন্ডল জানান, পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে উপজেলার অন্তারমোড় পর্যন্ত নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এলাকার গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবী। বৃহত্তর জনস্বার্থ বিবেচনায় বাঁধটি নির্মাণ করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ গোটা গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকা নদীভাঙনের হাত থেকে স্থায়ী ভাবে রক্ষা পাবে।

 

রাজবাড়ীর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারি প্রকৌশলী মো. আরিফ সরকার প্রথমবার্তাকে বলেন, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে অন্তারমোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকা। এর মধ্যে বেপারীপাড়া গ্রাম এলাকায় নদীভাঙন চলছে। ভাঙনের আঘাত যাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে না পড়ে সে জন্য লঞ্চঘাটের উজানে নতুনপাড়া এলাকায় বালুভরা বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে পাউবো। তবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিঘাট থেকে উজানে চার কিলোমিটার এবং ভাটিতে দুই কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে।