আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর বার্মার নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস হামলার তিন বছর হয়ে গেলো। তিন বছরের মাথায় ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার ও দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ফের দাবি জনাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মরগান অর্টাগাস এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছেন। বুধবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে।

 

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মরগান অর্টাগাস এক বিবৃতিতে বলেন, রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে, আমরা সহিংসতার অবসান, সংলাপ, স্থানীয় জনগণের সুরক্ষায় নবায়িত/অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং বার্মায় মানবিক সহায়তার বাধামুক্ত প্রবেশের দাবি জানাচ্ছি। বার্মায় এখনো স্থানীয় বাসিন্দাদের হত্যা ও হাজার হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগমুক্ত হতে পারছে না। কারণ এই ধরনের পরিস্থিতি শরনার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কমায় এবং শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট করে।

 

বিবৃতিতে বলেন তিনি বলেন, আমরা বার্মার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন শরনার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেন।

 

একইসঙ্গে তারা যেন রাখাইন রাজ্য বিষয়ে কফি আনানের নেতৃত্বে পরিচালিত এডভাইজরি কমিশনের দেয়া সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে জোরালো প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্র বার্মা ও বাংলাদেশে সঙ্কটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের মানবিক দুর্ভোগ লাঘবে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯৫১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছে।

 

আমরা ৮৬০,০০০ এরও বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত উদারতার আন্তরিক প্রশংসা করি। আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই সংকট সমাধানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানাই।

 

তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিশ্চিত করতে ও নৃশংসতার জন দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত শীর্ষ সামরিক নেতৃবৃন্দ ও সামরিক বাহিনীর ইউনিটগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ, জাতিসংঘের তদন্ত প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা এবং বার্মাকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর কার্যক্রমে পুরোপুরিভাবে অংশ নিতে এবং আদালতের রায় মেনে নিতে উৎসাহিত করা। আমরা এই নৃশংসতার জন্য দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রশংসা করছি। তবে আরো অনেক কিছু করার বাকি আছে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র বার্মাতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্তরাধিকার কাটিয়ে উঠতে এবং গণতন্ত্রের প্রসার ও শান্তি অর্জনের জন্য সেখানকার জনগণের প্রচেষ্টার সাথে অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মরগান অর্টাগাস।