আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বৈধতা পাচ্ছে ‘যন্ত্রণার যান’

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কুমারশীল মোড় থেকে টিএ রোড, কুমারশীল মোড় থেকে পাইকপাড়া পানির ট্যাঙ্কি এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট- এমন দৃশ্য প্রতিনিয়ত। যানজটে আটকা পড়া এসব যানের অধিকাংশই ইজিবাইক। অধিকাহারে সড়কে থাকা, ট্রাফিক নিয়ম না মানাসহ বিভিন্ন কারণে যে যানকে ‘যন্ত্রণার যান’ হিসেবেই আখ্যায়িত করেন যাত্রীরা।

 

যন্ত্রণার এ যান পেতে যাচ্ছে বৈধতা। রীতিমতো পৌরসভা এসব যানকে বৈধ করে লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে। এর মধ্যেই লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ইজিবাইকের পেছনে লাইসেন্সের একধরনের স্টিকার সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে লাইসেন্সের ফরম নম্বর বসানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই লাইসেন্স নম্বর দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

এদিকে লাইসেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করেও শুরু হয়েছে নানাধরনের ‘অনিয়ম’। পৌর এলাকায় এই মুহূর্তে যে পরিমাণ ইজিবাইক চলে এর প্রায় চারভাগের একভাগ লাইসেন্স পাবে বলে অনিয়মের পথ তৈরি হয়েছে। সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন পৌরসভাসংশ্লিষ্ট ও শ্রমিক নেতারা।

 

পৌর এলাকার নাগরিকরা পৌরসভার এ উদ্যোগকে ভালোভাবে নেয়নি। অবৈধ যানকে বৈধ করে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় পৌর এলাকাকে যানজট মুক্ত করার যে প্রক্রিয়া সেটা ভেস্তে যাবে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো রিকশা ও তিন হাজারের মতো ইজিবাইক চলাচল করে। যে কারণে পৌর এলাকার কাউতলী থেকে টিএ রোড হয়ে মেড্ডা পর্যন্ত প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে টিএ রোডের রেলগেইট এলাকায় ফ্লাইওভার হওয়ার পর সেখানে যানজট কিছুটা কমে। তবে টিএ রোডের ব্রিজ থেকে কুমারশীল মোড় হয়ে মেড্ডা পর্যন্ত এখনো যানজট লেগে থাকে। অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এ অবস্থায় পৌর কর্তৃপক্ষ ইজিবাইককে লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া ইজিবাইক শুধুমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেওয়া সড়কে চলাচল করতে পারবে।

 

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ বেশ কয়েকজন ইজিবাইক মালিক ও চালক বলেন, তাদের কেউ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন কেউ পাননি। লাইসেন্সের আবেদন করার সুযোগ যারা পেয়েছেন তারা বলছেন, বিভিন্ন কারণেই পৌরসভা নির্ধারিত ফি ২০০০ টাকার পেয়ে বেশি গুনতে হচ্ছে। ৮-১০টি অটো যাদের আছে তারা সর্বোচ্চ ৫টির লাইসেন্স পাচ্ছেন বলেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে যারা পাননি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

ইজিবাইকের মালিক পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডার বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, ৫টি মধ্যে ৩টির লাইসেন্স করার জন্য আবেদন করেছেন। মো. বাদশা নামে আরেক ইজিবাইক মালিক জানান, তিনি একটির জন্য আবেদন করেছেন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি পিযূষ কান্তি আচার্য্য বলেন, আমাদের আশপাশের জেলাগুলোতে ইজিবাইকের মতো যান যেন না চলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। আর আমাদের এখানে লাইসেন্স দিয়ে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ভোটের হিসেবনিকেশ কষেই পৌরসভা এসব অবৈধ যানকে বৈধ করতে যাচ্ছে, যা পৌরবাসীর জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আল-মাসাদ মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, পৌরসভা থেকে ২৫০০ রিকশা ও ৮০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। রিকশার লাইসেন্সের জন্য এক হাজার টাকা ও ইজিবাইকের লাইসেন্সের জন্য দুই হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুসারে যেকোনো অযান্ত্রিক যানের লাইসেন্স দিতে পারে। রিকশা ও ইজিবাইক দুটিই বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে চলে বলে এটা যন্ত্রের মধ্যে পড়ে না। বিভিন্ন পৌরসভা আরো বেশি টাকা নিয়ে ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছে।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর ধরেই ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইজিবাইক মালিক ও শ্রমিক নেতারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রকৃত মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেই মোতাবেক লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে।লাইসেন্স দেওয়ার পর অবৈধ ইজিবাইক পৌর এলাকায় চলতে পারবে না বিধায় যানজটও কমবে বলে তিনি মনে করেন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী মো. শাহজাহান তালুকদার বলেন, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে অনেকে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করেন। সম্প্রতি সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকাতে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরো জানান, এমনিতে বৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনেকে আবেদন করে সংযোগ নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে মাত্র সাত টাকা প্রতি ইউনিটে চার্জ করা যায়। কেউ ইচ্ছে করলে নিজ বাড়ির বৈধ সংযোগ থেকেও চার্জ দিতে পারেন।