আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনার সুযোগে নামধারী ডাক্তারদের অপচিকিৎসা!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ওষুধের দোকান। ‘ড্রাগলাইসেন্স’ ছাড়াই ওই সব দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধ। এ ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ক্ষমতাহীনতার সুযোগে সেখানে চিকিৎসার নামে ‘ডাক্তার’ নামধারী অনেকেই রোগীদের অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করাচ্ছেন। এতে ওই সব রোগীর বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় গোয়ালন্দ পৌর শহর এলাকার অভিযান চালিয়ে এক ফার্মেসি মালিককে নগদ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার উজানচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে অনুমোদনহীন দুই শতাধিক ছোট-বড় ওষুধের দোকান গড়ে উঠেছে। ওই সব দোকানিরা ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য তাদের কাছেই যান। সেখানে রোগীর লক্ষণ যাই হোক, দামী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গছিয়ে দেওয়াই ওই সব দোকানির মূল ব্যবসা। শুধু অ্যান্টিবায়োটিক নয়, স্টেরয়েড, উচ্চ মানের পেইনকিলারসহ অনেক ওষুধ আছে, যা প্রেসক্রাইব করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও চিন্তাভাবনা করেন। অথচ ‘ডাক্তার’ নামধারী এলাকার অনেক ওষুধের দোকানি বিভিন্ন রোগীর শরীরে সংবেদনশীল ওই সব ওষুধ অহরহ ব্যবহার করছেন। ফলে দিন দিন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এরমধ্যে শিশু রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র মুনাফা লাভের আশায় এলাকার এক শ্রেণির অসাধু দোকানি বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিন্ডকেট করে তারা অবাধে সংবেদনশীল বিভিন্ন ওষুধ বিক্রি ও ব্যবহার করে আসছেন। এতে রোগীকে পুঁজি করে সেখানে তারা গড়ে তুলেছেন অপচিকিৎসার এক বিশাল আয়োজন।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ক্ষমতাহীনতার সুযোগে চিকিৎসার নামে ডাক্তার নামধারী অনেক দোকানি রোগীদের অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে বহুবিধ অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিজটান্স’ তৈরি হয়। পরবর্তিতে রোগাক্রান্ত ওই সব শিশুদের শরীরে আর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় তাদেরকে সুস্থ করে তোলা অনেকটা দূরুহ হয়ে পড়ছে।

তিনি আরো জানান, বর্তমান করোনা মহামারির কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তবে করোনার সুযোগে রোগীকে পুঁজি করে অপচিকিৎসা চালাচ্ছেন এলাকার নামধারী ডাক্তাররা।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের আগে ডাক্তার শব্দটি লিখতে পারেন না। কিন্তু এলাকার অনেকেই তাদের ব্যাবস্থাপত্রের প্যাডের উপরে নিজের নামের আগে ডাক্তার শব্দটি লিখে সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে অপচিকিৎসার কাজ চালিয়ে আসছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, এলাকার অবৈধ ওষুধের দোকান বন্ধের পাশাপাশি নামধারী ডাক্তারদের অপচিকিৎসা রোধে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। অপচিকিৎসার ফলে স্থানীয় এক রোগীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গোয়ালন্দ পৌর শহর এলাকার এক ফার্মেসির মালিককে নগদ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।