আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা: ডিএসসিসির ৫ প্রকল্পের কাজে ধীরগতি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিগত কয়েক মাসে তেমন কোনো কাজ হয়নি প্রকল্পগুলোর। ফলে এসব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

 

প্রকল্প পাঁচটি হলো- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প, মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড সম্প্রসারণ উন্নয়ন প্রকল্প এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নবসংযুক্ত ডেমরা, মান্ডা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের কাজের গতি কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন শেষ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ঠিকাদাররা কাজ করতে পারেননি। এর মধ্যে মেগা প্রকল্পে কিছু কাজ হলেও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পে কোনো কাজ হয়নি। তবে বর্তমানে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যায় এসব প্রকল্পের কাজের গতি এখন স্বাভাবিকভাবে চলবে।

 

সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি (মেগা প্রকল্প) ২০১৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এক হাজার ২১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৫৭ শতাংশ।

 

এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মাতুয়াইল স্যানেটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমান ল্যান্ডফিলের পার্শ্ববর্তী ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণকাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নবসংযুক্ত ডেমরা, মান্ডা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৭২ শতাংশ।

 

২৬৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।

 

এছাড়া ৭৭৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও গত জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৫৫ শতাংশ।

 

এদিকে উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বরাদ্দ দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ছয় হাজার ১১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠার পর এটিই তাদের সর্বোচ্চ বাজেট। সম্প্রতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

 

উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া এবারের বাজেট উপস্থাপন বক্তব্যে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, মহাপরিকল্পনার আওতায় আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র (কমিউনিটি সেন্টার) নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার, ২০২১ সালের মধ্যে ৭৫টি ওয়ার্ডে একটি করে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রসহ (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন-এসটিএস) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ঢেলে সাজানো, দখল-দূষণ প্রতিরোধ করে নদ-নদী-জলাধারগুলোর পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধন করবো।

 

‘এছাড়া মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গৃহকর না বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণের পরিসীমা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি’— বলেন মেয়র।কারবালার সঙ্গে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের যেন অদ্ভূত মিল রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা একটানা দুই বছর বাবাকে কাছে পাইনি।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সকল শহীদের স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সভায় অংশ নেন তিনি।

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিবিসিতে প্রদত্ত কর্নেল রশিদ এবং ফারুকের ইন্টারভিউ এবং বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল যে, এই খুনিরা স্বীকার করেছিলেন তাদের সঙ্গে জিয়াউর রহমান আছেন। জিয়াউর রহমানের কাছ থেকেই তারা সব ধরনের সহযোগিতায় পেয়েছিলেন। আর সেই সঙ্গে বেইমানি মুনাফিকি করেছিলেন খন্দকার মোস্তাক।’

 

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে খন্দকার মোশতাক যে সম্পূর্ণ জড়িত…১৫ আগস্টের পর মোশতাক নিজেই নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং তার সবচাইতে বিশ্বস্ত ছিলেন জিয়াউর রহমান। সে সময় সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিয়ে মোশতাক জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান বানান এবং বঙ্গভবনে যতদিন ছিলেন জিয়া রহমান সেখানে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতেন। এই খুনিদের সঙ্গে উঠাবসা, বৈঠক, আলাপ-আলোচনা হতো। বিভিন্ন বক্তব্য এবং পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলার পর এটা আজ সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট।’

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হত্যার মধ্যদিয়ে কী পেয়েছে? আজকে যদি আমরা ১৫ আগস্টের দিকে তাকাই…আজকে আপনারা জানেন, আজ আশুরার দিন। সেদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতি ইমাম হোসেনকে কারবালার ময়দানে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কারণ তারা ন্যায়ের পথে ছিল। কিন্তু কারবালায় নারী-শিশুদের হত্যা করা হয় নাই। কিন্তু ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি বা মিন্টু রোডের বাড়িতে নারী-শিশুরা রক্ষা পায়নি। ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে যেন এই হত্যাকাণ্ডের এক অদ্ভূত মিল রয়ে গেছে।’

 

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন, মানুষকে উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন-এটাই কি তার অপরাধ ছিল?’ ‘পাকিস্তান নামের যে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল, সে রাষ্ট্রটি নির্মাণের প্রতিও তার অবদান ছিল। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছিলেন। সে সময় তাদের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই দেখা গেছে, বাঙালি শোষিত-নির্যাতিত-বঞ্চিত। বাংলাদেশের উপার্জিত অর্থ দিয়েই পশ্চিম পাকিস্তানের মরুভূমিতে ফুল ফোটানো হচ্ছে। আর আমাদের দেশের মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র-বঞ্চিত-শোষিত থেকে যাচ্ছে’-যোগ করেন সরকারপ্রধান।

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যই বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছিলেন। যে সংগ্রাম ১৯৪৮ সালে শুরু হয়। সে সময় আমাদের মাতৃভাষায় কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে তখনকার তরুণ ছাত্র শেখ মুজিব মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন। সেই সংগ্রাম শুরু করতে গিয়ে ১১ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দিলেন। সেখানেও তাকে কারাবরণ করতে হয়। এইভাবে আন্দোলন যখন শুরু…সেই ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে নিয়ে ধাপে ধাপে একটি জাতিকে তিনি প্রস্তুত করলেন স্বাধীনতার চেতনায়।’

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বারবার আঘাত এসেছে। সে সময় যারা পাকিস্তানি শাসকদের তোষামোদি করতে পেরেছেন, চাটুকারিতা করতে পেরেছেন তাদেরকে তারা এ পূর্ববঙ্গে রেখেছেন। যখনই গণমানুষের নেতা নির্বাচিত হয়েছে, সেই নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন এখানে চালনা করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালে একই ঘটনা ঘটেছে। ’৫৪ সালে তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল কিন্তু মার্শাল ল দিয়ে সকল ক্ষমতা কেড়ে হয়েছিল। সেদিনও সেনাপ্রধান আইয়ুব খান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় গদি দখল করেছিল এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।’

 

একটানা বাবাকে দুই বছর কাছে না পেয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাদের জীবনে আমরা একটানা দুই বছর বাবাকে কাছে পাইনি। যদি হিসাব করে দেখি একটা বছর বাদ গেলে তার পরের বছরই তিনি কারাগারে। ঘরে না যত দেখা হয়েছে তার চেয়ে বেশি জেলগেটে দেখা করতে হয়েছে। তিনি তার জীবনে এত ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন কেন? বাংলাদেশের জনগণের জন্য।’