আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ক্লিনিকে নয়; ঘরেই জন্মাবে শিশু!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ পৃথিবীতে   একটা সময় ছিল যখন প্রসূতি নারী ধাত্রী ডেকে ঘরের আঙিনায় সন্তান জন্ম দিতেন। তখন হাসপাতাল বা প্রাইভেট ক্লিনিকে সন্তান জন্মানোর প্রচলন ছিল না। পৃথিবী আধুনিক হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে রীতির। বর্তমান বিশ্বে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নারীরাও সন্তান জন্ম দিতে চলে যান হাসপাতালে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির তাণ্ডবে অনেক নিয়মই বদলে গেছে পৃথিবীর। কভিড-১৯-এর কারণে হাসপাতালের করিডরগুলোতে ভিন্ন রোগের রোগীদের আনাগোনা একেবারে নাই বললেই চলে।

গর্ভবতী হওয়া কোনো রোগ না হলেও সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ স্পর্শকাতর হওয়ায়, চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রসূতির সঙ্গে একজন রোগীর মতোই আচরণ করে থাকে এবং সে মতে চিকিৎসাও প্রদান করে। কিন্তু সংক্রমণশীল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সুইডেনের বেশির ভাগ গর্ভবতী নারী বর্তমানে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে ভয় পাচ্ছেন এবং অস্বীকার করছেন। সে কারণে স্টকহোমের ক্যারোলিন্সকা ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কভিড-১৯ রোগীদের কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য এবং একই সঙ্গে প্রসূতি নারীদের বাড়তি আগ্রহের কারণে নিজ ঘরেই সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া শুরু করছে। ২০০২ সালে অবশ্য হাসপাতালের ব্যয় কমানোর জন্য নিজ ঘরে সন্তান জন্মানোর প্রজেক্টটি সরকার শুরু করেছিল। কিন্তু শুরু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন কারণে তা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাসের কারণে আবার সেই প্রজেক্টটি ‘আমার ধাত্রী’ নামে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার পর নারীর মনে যে ভয় এবং দ্বিধা কাজ করত, তা থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্যই দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল ‘আমার ধাত্রী’ নামের প্রজেক্টটি। তবে তখন হাসপাতালের চত্বরেই ছিল এর সার্বিক কার্যক্রম। বর্তমানে নিজ গৃহে সন্তান জন্ম শুধু সেসব নারীই দিতে পারবেন, যাঁরা ইতিপূর্বে এক বা একাধিক সন্তানের মা হয়েছেন। শত বছর পূর্বের ইতিহাস হয়তো ভিন্ন। কিন্তু বর্তমান উন্নত বিশ্বে ঘরে সন্তান প্রসব করানো এক কথায় অচিন্তনীয়। করোনা মহামারির কারণে বাধ্য হয়ে এমন কি উন্নত বিশ্বকেও ফিরে যেতে হচ্ছে অনুন্নত যুগের দিকে। তবে প্রত্যেক প্রসূতির ক্ষেত্রেই চিকিৎসক আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছে ক্যারোলিন্সকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অতি সম্প্রতি সুইডেন ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশের জরিপের ফলাফলেও দেখা গিয়েছে যে, করোনা মহামারির পর থেকে হাসপাতালের চেয়ে নিজ গৃহে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা অনেক বেশি সাহস ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন।