আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি, রাহুলকে দিয়ে আর হবে না

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ পরপর দুটি লোকসভা ভোটে শতাব্দী প্রাচীন কংগ্রেসের তথৈবচ দশা দেখে অনেকেই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্নই যে কংগ্রেসের ভেতর এমন অগ্ন্যুৎপাত করবে তা কে জানত!

 

কেইবা জানত, কংগ্রেসের তাবড় নেতারা খোদ সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে বলবেন, রাহুলকে দিয়ে আর হবে না! দ্য ওয়াল।ঠিক এমনটাই হয়েছে। এই ভাষাতেই চিঠি লিখেছেন দু’ডজনের বেশি কংগ্রেস নেতা। যার মোদ্দাকথা, গত দুটি নির্বাচন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, রাহুল গান্ধী কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না।

 

ওই চিঠিতে কংগ্রেস নেতারা সোনিয়াকে লিখেছেন, ‘আমাদের আর সে কথা বলার জায়গা নেই যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কংগ্রেস ৪০০ আসন জিততে পারে! তার নেতৃত্বে কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়। এটা আমাদের বুঝতে হবে যে, গত ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে আমরা তার নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় আসন জিততে পারিনি।’

 

বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতারা সোনিয়াকে লেখা চিঠিতে ব্যাখ্যা করে কংগ্রেসের দশা তুলে ধরেছেন। ওই চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘নাগপুর থেকে সিমলা (উত্তর ভারত) কংগ্রেস মাত্র ১৬টি আসন জিতেছে। তার মধ্যে আটটি পাঞ্জাব থেকে।’অর্থাৎ যে উত্তর ভারত, যে হিন্দি হার্ট ল্যান্ড ভারতীয় রাজনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত, সেখানেই কংগ্রেসের করুণ থেকে করুণ অবস্থা ফুটে উঠেছে।

 

এই কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে অধিকাংশ অবশ্য দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি তথা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যই নন। এবং এও বাস্তব যে, সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির যে বৈঠক হয়েছিল সেখানে অধিকাংশ সদস্যই রাহুলকে ফের সভাপতি পদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি ওয়ার্কিং কমিটির অন্যতম সদস্য তথা লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও সেই আর্জি জানিয়েছিলেন।

 

অধীরবাবুর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াংকা গান্ধীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবন সম্ভব। শুধু কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরাই নন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও সোনিয়া গান্ধীকে সমীহ করেন। ১২ নম্বর তুঘলক রোডের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, মোটেই তা নয়। রাহুল এখনও জেদ ধরে রয়েছেন যে তিনি সভাপতি পদের দায়িত্ব নেবেন না।

 

দলের ওই নেতার কথায়, মিথ্যা আর বুজরুকিতে ভরা বর্তমান রাজনৈতিক সময়ে রাহুল কিন্তু ভিন্ন মেরুর বাসিন্দা। রাজনীতি নিয়ে তার রোমান্টিসিজম রয়েছে। তিনি মিথ্যাচার পছন্দ করেন না। একবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ফিরিয়ে নেয়ার বান্দা তিনি নন। তবে হ্যাঁ রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

 

ওয়ার্কিং কমিটির নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে যদি তাকে ফের দায়িত্ব নিতে বলেন, তা হলে রাহুলের তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং সেই সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়ে দল ও দেশের স্বার্থে সভাপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত।

 

সোনিয়া গান্ধীকে কংগ্রেস নেতারা যে চিঠি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে গত সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ঝড় উঠেছিল। মেজাজ হারিয়ে নাকি কপিল সিব্বল, শশী তারুরদের উদ্দেশে সিডব্লিউসি বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলে বসেছিলেন, ‘ওরা তলে তলে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করছেন!’ পরে অবশ্য উপর উপর মিটমাট হয়ে যায়।

 

ঠিক হয় আপাতত আরও কয়েক মাস কংগ্রেস সভানেত্রীর দায়িত্বে থাকবেন সোনিয়া গান্ধী। আর তার পরই সভানেত্রী কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করেন। সংসদের দুই কক্ষে উপ-দলনেতা ও মুখ্য সচেতক পদে গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও তরুণ নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়। যা দেখে অনেকে মনে করতে শুরু করেছেন, নতুন করে টিম রাহুলের প্রস্তুতি নয়তো!

 

কারণ, সংসদের দুই কক্ষের যে সব কংগ্রেস সাংসদদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা প্রত্যেকেই আঠারো আনা রাহুলের অনুগামী। তবে সে সব অনুমানমাত্র। শেষ পর্যন্ত দলের নতুন সভাপতি কে হবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।চৌদ্দ জুনের সেই তথাকথিত আত্মঘাতী হওয়ার দিনটিতে শেষের ক’ঘণ্টা সুশান্তের আচরণ কেমন ছিল তা জানতে উঠেপড়ে লেগেছে সিবিআই।

 

এর জন্যেই সুশান্তের ফ্ল্যাটমেট সিদ্ধার্থ পিঠানি, কুক দ্বিপেশ সাওয়ান্ত ও ম্যান ফ্রাইডে নিরাজ কেশবকে তারা আলাদাভাবে জেরা করেছে। জেরায় দ্বীপেশ জানিয়েছেন, তের জুন রাতে সুশান্ত ডিনার করেননি। শুধু ম্যাংগো শেক খেয়েছিলেন। প্রায় রাতেই তিনি ডিনার স্কিপ করতেন। এরপর সাড়ে দশটায় ঘুমিয়ে পড়েন দ্বীপেশ। ভোর পাঁচটায় তাঁর ঘুম ভাঙে। সাড়ে ছটায় সুশান্তের ঘরে গিয়ে দেখেন, সুশান্ত খাটের ওপর বসে আছেন।

 

এয়ারকন্ডিশনার বন্ধ। জানালা খোলা, ফ্যান চলছে। দ্বীপেশ সুশান্তকে এইসময় জিজ্ঞাসা করেন তিনি চা, কফি বা ব্রেকফাস্ট খাবেন কিনা। সুশান্ত তাঁকে না করে দেন। সাতটায় ঘুম থেকে ওঠেন সিদ্ধার্থ এবং নিরাজ। সুশান্তের প্রিয় কুকুরকে নিয়ে মর্নিং ওয়াক করে ফেরার সময় নিরাজকে সুশান্ত জিজ্ঞাসা করেন – সব ঠিক আছে তো? ড্রয়িংরুমের হলঘরটি পরিষ্কার আছে কিনা তাও জিজ্ঞাসা করেন সুশান্ত। সাড়ে নটায় নিরাজ সুশান্তের জন্যে ডাবের জল, ফলের রস এবং কলা নিয়ে যান।

 

সুশান্ত ফলের রস ও ডাবের জলটা খান। তখনো সুশান্তকে স্বাভাবিক লেগেছিলো নিরাজের। সাড়ে দশটা নাগাদ সুশান্ত লাঞ্চে কি খাবেন তা জিজ্ঞাসা করতে তাঁর ঘরে ফের যাওয়ার চেষ্টা করেন নিরাজ। ঘরের দরজা সেই সময় ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। বাইরে থেকে জিজ্ঞাসা করেও নিরাজ কোনও উত্তর পাননি বলে সিবিআইকে জানিয়েছেন।

 

এরপরই তিনি সিদ্ধার্থ পিঠানিকে দরজা বন্ধ থাকার খবরটি জানান। সিদ্ধার্থও এসে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু, সুশান্ত দরজা খোলেননি বা সাড়া দেননি। সিদ্ধার্থ সিবিআইকে জানিয়েছেন, সেই সময় তাঁর সন্দেহ হয়, কারণ ঘরে বান্ধবী থাকলে সুশান্ত দরজা বন্ধ রাখতেন। নয়তো দরজা খোলা রাখাটাই তাঁর অভ্যাস ছিল। এরপরই দরজা ভেঙে সুশান্তের নিষ্প্রাণ , ঝুলন্ত দেহটি দেখতে পাওয়া যায়। বাকিটা ইতিহাস।