আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

তিন দিন যন্ত্রণার পর গুলিবিদ্ধ লামিয়ার পায়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  প্রায় তিন দিন যন্ত্রণায় কাতরানোর পর খুলনায় বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়ার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তার পা থেকে গুলি বের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে এ অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

 

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও অর্থপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. মেহেদী নেওয়াজের নেতৃত্বে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের একটি দল লামিয়ার অস্ত্রোপচার করেছেন। এর আগে রবিবার লামিয়ার থ্রি-ডি সিটি স্ক্যান এবং হাই আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

 

লামিয়া মহানগরীর আরাফাত জামে মসজিদ এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে। সে ইকবালনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। শুক্রবার গুলি লাগার পর থেকে এ তিন দিন ব্যথার যন্ত্রনায় ছটফট করছিলো লামিয়া।

 

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঠিকাদার শেখ ইউসুফ আলীর বাড়ি গিয়েছিল তার মেয়ের প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধুরা। এক পর্যায়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন তিনি। গুলির শব্দ শুনে পাশের বাড়ির স্কুল পড়ুয়া লামিয়া কৌতুহলবশত ঠিকাদারের বাড়ির সামনে আসে। এ সময় লক্ষভ্রষ্ট হয়ে একটি গুলি লামিয়ার বাম পায়ে বিদ্ধ হয়।

 

এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে ইউসুফ আলী তাঁর মেয়ের প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধুদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

 

ঠিকাদার ইউসুফ আলী এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দাবি করেন, ঠিকাদারি একটি কাজ নিয়ে চার যুবক তার কাছেপাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার এক পর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে তিনি পিস্তল নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন।

 

এ সময় পিস্তলে তিন রাউন্ড গুলি ছিল। তিনি দুই রাউন্ড গুলি করেন। ওই চার যুবকরাও দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করেছিলো। তাদের গুলি লামিয়ার পায়ে বিদ্ধ হয়েছে।তবে ঠিকাদারের দায়ের করা মামলা ও দাবি করা সব তথ্য মিথ্যা বলে অভিযোগ করেছেন ওই চার যুবকের স্বজনরা।

 

তাদের দাবি, ঠিকাদার ইউসুফ আলীর মেয়ে রুকাইয়া বানরগাতির সোহরাওয়ার্দী কলেজে পড়েন। রুকাইয়ার সঙ্গে শাহিদ নামে একটি ছেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঠিকাদার তার পছন্দের ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

মেয়ের মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। কয়েকদিন মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে প্রেমিক শাহেদ তার তিন বন্ধু মেহেদি, ইসমাইল ও সাইফুলকে নিয়ে যান ইউসুফ আলীর বাড়িতে। প্রেমিকা রুকাইয়ার বাবা ঠিকাদার ইউসুফকে তারা র্দীঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের কথা খুলে বলেন।

 

এমন সময় ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তাদের গালিগালাজ শুরু করেন। তখন সেখানে উপস্থিত রুকাইয়ার মামা তাদের বের হয়ে যেতে পরামর্শ দেন। তারা বের হয়ে দরজা পর্যন্ত আসার পরে ইউসুফ পিস্তল নিয়ে বের হয়ে গুলি ছোড়েন। এতে লামিয়া গুলিবিদ্ধ হয়।