আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কথা দিলে কথা রাখেন মোদি!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  করোনার মধ্যেই নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে ভারতের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস। ১৫ আগস্ট দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আত্মনির্ভরশীল ভারত গড়ে তোলাসহ একাধিক ‘গেম-চেঞ্জিং প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি তাঁর পূর্ববর্তী ছয়টি স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার সবগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে আত্মনির্ভরশীল ভারত গড়ার যে প্রতিশ্রুতি মোদি দিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন হবে বলেই ধরে নেয়া যায়।

 

ব্লুক্রাফ্ট ডিজিটাল ফাউন্ডেশনের সিইও, অখিলেশ মিশ্র বলেন, এই ভাষণটি তাঁর পূর্ববর্তী ছয়টি বক্তৃতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরো দৃঢ় করেছে। যেখানে তাঁর দ্বারা করা সমস্ত প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালে, প্রথম বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে সময় মাত্র ৫৮ শতাংশ ভারতীয়ের কাছে এটি ছিল। এখন প্রায় প্রত্যেকের কাছেই ব্যাংক আ্যাকাউন্ট আছে। ৪০০ মিলিয়ন নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।

 

২০১৫ সালের ভাষণে প্রতিশ্রুতি ছিল, ভারতের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতায়িত করার। তা সময়সূচির আগেই শেষ করা হয়েছে এবং গ্রামের প্রতিটি পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। ২০১৬ সালে ভারতের প্রতিটি বাড়ি ধূমপান মুক্ত করা এবং ভারতের প্রতিটি দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্য বীমা করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেটিও বাস্তবায়নের পথে।

 

আখিলেশ মিশ্র বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এবার এলএসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের রেখার)-এর কথা উল্লেখ করা ছিল লাল কেল্লা থেকে আসা চীনের বিরুদ্ধে প্রথম হুঁশিয়ারি। মোদি বলেন, ‘সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন অবস্থান ভারতের। এলওসি (নিয়ন্ত্রণরেখা) থেকে এলএসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) পর্যন্ত যেখানে যারা দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, ভারতীয় বাহিনী তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে।’

 

লাল কেল্লার ভাষণে মোদি বলেন, ‘দেশের একতা ও অখণ্ডতা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জওয়ানেরা কী পারেন, দেশ কী করতে পারে, গোটা পৃথিবী তা লাদাখে প্রত্যক্ষ করেছে।’

 

ভাষণে চীনকে হুঁশিয়ারি ছাড়াও মোদি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ‘মেক ফর ওয়ার্ল্ড’ এবং সম্ভাব্য করোনা প্রতিষেধকের কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, এই মুহূর্তে দেশে তিনটি করোনা প্রতিষেধক নিয়ে কাজ চলছে। গবেষকদের সবুজসংকেত পেলেই করোনা টিকার উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। প্রত্যেকের কাছে প্রতিষেধক পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখাও সরকার তৈরি করে ফেলেছে।

 

ভাষণে মোদি আরো যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারমধ্যে অন্যতম হলো, উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ফাইবারের মাধ্যমে ভারতের প্রতিটি গ্রামকে সংযুক্ত করা। জাতীয় অবকাঠামো মিশনের ঘোষণার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি, কৃষিক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগকে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

 

এবারের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত, জাত-ধর্মহীন এক নতুন ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন। সেই পথে কীভাবে এগিয়ে যেতে চান তিনি ও তার সরকার, সেই রূপরেখাও মোদির ভাষণে উঠে এসেছে। সূত্র : ইয়াহু নিউজ।