আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বিস্ফোরণ ঘটেছে মসজিদের নিচের গ্যাস লাইন থেকেই

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের মসজিদে এসি বিস্ফোরণ হয়েছে মূলত মসজিদের নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাসের লাইনের অসংখ্য লিকেজ থেকে বের হওয়া গ্যাসের কারণে।বন্ধ রুমে এসি চলাকালে নিচ থেকে গ্যাস বের হওয়ায় হঠাৎ এসিগুলো বিস্ফোরিত হয়।

 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২টায় প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এ তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন।

 

আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, আমরা এখানে এসে প্রথমেই ধারণা করি, এসিগুলো বিস্ফোরণের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংশ্লিষ্টতা কম। পরে মেঝেতে থাকা পানিতে গ্যাসের বুদবুদ ওঠায় সন্দেহ হয়। এরপর দেখা যায়, মসজিদের নিচ দিয়ে তিতাস গ্যাসের অনেকগুলো লাইন গেছে। লাইনের পাইপগুলোর প্রতিটিতে একাধিক লিকেজ রয়েছে। সেই লিকেজের গ্যাস সব সময় মসজিদে উঠত। নামাজের আগে থেকেই মসজিদ বন্ধ করে এসিগুলো চালু করার ফলে পুরো রুমেই এসির গ্যাস ও লাইনের গ্যাস মিশে যায়।

 

আর গ্যাসের ধর্মই হলো বিস্ফোরণের অবস্থা তৈরি হলে বা কোনো আগুনের সংস্পর্শ পেলে বিস্ফোরিত হয় বা জ্বলে ওঠে। সেই সূত্র মতেই কোনো একটি বিস্ফোরণের কারণে এ বিস্ফোরণ হয়েছে। আমরা ধারণা করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তারা দ্রুত এখানে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, গ্যাসের লাইন থেকেই এ বিস্ফোরণ হয়েছে।

 

আমরা এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছি। কীভাবে এ লিকেজ বন্ধ করা যায় এবং আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে কাজ করছি। পাশাপাশি বিস্ফোরণের সঙ্গে গ্যাস ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সূত্র রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছি। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাসের পাইপগুলো সারানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।

 

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদের এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

 

মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৪০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।