আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এক্ষেত্রে আদেবদন করতে হবে।

 

যদি নিহতের পরিবারের কারো আপত্তি থাকে সেক্ষেত্রে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।শনিরাব (০৫ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২ টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহত-নিহতদের দেখতে এসে একথা বলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জায়েদুল আলম।তিনি বলেন, নিহদের মরদেহ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ মিলে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেভাবে চাইবে আমরা সেভাবেই মরদেহ হস্তান্তর করবো। নিহতদের মরদেহ শাহবাগ থানা পুলিশের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে।তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে (মসজিদ) আমরা পরিদর্শন করেছি, প্রাথমিকভাবে পরিলক্ষিত হয় সেখানে এসি বিষ্ফোরণে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

 

মসজিদের মোট ৬ টি এসি ছিল, যা সবগুলো বিণ্ফোরণ হয়। এতে মসজিদের সবগুলো কাচের জানালা ভেঙে যায়। আগুনে মসজিদের সিলিং ফ্যানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে মানুষের রক্ত মাংস ও চামড়া লেগে থাকতে দেখা গেছে।“আহত ও নিহতের সহায়তার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হেলপ ডেক্স খোলা হয়েছে।

 

আমরা গত রাত থেকেই তাদের সহায়তা দিচ্ছি। এই ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।”যারা আহত হয়েছেন, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক রয়েছে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

ওই কমিটিতে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ), তিতাস গ্যাস, বিদ্যুত বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১ জন স্টেশন অফিসার রয়েছেন।

 

মসজিদের কী কারণে এসি বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটলো সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এদিকে মসজিদের নিচে তিতাস গ্যাসের লাইন রয়েছে, যা টাইলস দিয়ে ঢাকা ছিল। এই মুহূর্তে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না।

 

এই ঘটনায় ৩০৪ ধারায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।নারায়ণগঞ্জের বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২ জন মারা গেছে। আমাদের কাছে মোট ৩৭ জন রোগী এসেছিলেন।

 

বাকি যারা ভর্তি আছেন তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।মৃত ১২ জন হলেন- রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুবায়ের (১৮), সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপরী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), মোয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০), জুবায়ের (৭) ও রাসেদ (৩৪)।