আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কোভিড-১৯ রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস যত মাসের মধ্যে সেরে ওঠে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: কোভিড-১৯ রোগীরা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস এবং হার্টের ক্ষতির শিকার হতে পারেন। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নতি করতে থাকে, এমনটা দেখা গেছে নতুন একটি গবেষণায়।

অস্ট্রিয়ার গবেষকরা জানান, করোনাভাইরাস দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস, এমনকি ভেন্টিলেটর চিকিৎসা নেওয়া করোনা রোগীর ক্ষেত্রেও মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ফুসফুস নিজ থেকেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে।

গবেষকরা আরো জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও করোনা রোগীরা সাধারণ উপসর্গে ভুগতে পারেন, তবে ১২ সপ্তাহ পরে উপসর্গ দূর হয়ে যায়।

অস্ট্রিয়ার বেশ কয়েকটি হাসপাতালের দেড় শতাধিক করোনার রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার ৬, ১২, এবং ২৪ সপ্তাহ পরে এসব রোগীদের পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবার রোগীদের ক্লিনিক্যাল টেস্ট, ল্যাব টেস্ট, রক্তে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বিশ্লেষণ এবং ফুসফুসের কার্যকারিতার বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়।

করোনামুক্ত হওয়ার ৬ সপ্তাহ পরের পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি রোগীর একটি স্থায়ী উপসর্গ বিদ্যমান দেখা গেছে যেমন শ্বাসকষ্ট বা কাশি। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে ৮৮ শতাংশ রোগীর ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ততা পাওয়া যায়। ৪৭ শতাংশ রোগীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা এবং ১৫ শতাংশ রোগীর কাশি বিদ্যমান পাওয়া যায়।

১২ সপ্তাহ পরের পরীক্ষায় দেখা যায়, ৩৯ শতাংশ রোগীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা এবং ১৫ শতাংশ কাশির সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ততা পাওয়া যায় ৫৬ শতাংশ রোগীর।

২৪ সপ্তাহ পরের পর্যালোচনা এখনো শেষ করেননি গবেষকরা। তবে গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে, ফুসফুস নিজ থেকেই মেরামত কাজ করতে থাকে এবং রোগীদের ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতির হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গবেষক দলের সদস্য ডা. সাবিনা সাহানিক বলেন, ‘গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করে যে ফুসফুস আসলে নিজেকে মেরামত করতে পারে। আমাদের গবেষণায় দুঃসংবাদটি হলো, করোনামুক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেও ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ততা থাকে। আর সুসংবাদটি হলো, ফুসফুসের এই ক্ষতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। যা ইঙ্গিত দেয় যে, ফুসফুসের নিজস্ব একটি মেরামত ব্যবস্থা আছে।’

গবেষণাপত্রটি চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় রেসপিরেশন সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়েছে।