আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বিকাশে টাকা দিলেই ফেরত পাওয়া যায় চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার ও মিটার!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক, চাল কল মালিক ও কৃষকেরা। মিটার চুরির পর সংযোগ স্থলের পাশে রেখে যাওয়া বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে প্রতারকদের চাহিদা মত টাকা পরিশোধ করলেই চুরি যাওয়া মিটার কোথায় আছে তা বলে দেয় প্রতারক চক্র।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় কামারখন্দ সাব জোনাল অফিসের তথ্য মতে, গত আট মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের আটটি পৃথক ঘটনায় ১৩ টি ট্রান্সফরমার ও ১৭টি শিল্প ও সেচের থ্রী ফেইস মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে গতকাল সোমবার রাতে জামতৈল ও কর্ণসূতি গ্রামে ১১টি শিল্প ও সেচের মিটার চুরির ঘটনা ঘটে। গ্রাহকরা প্রতারকদের বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে উদ্ধার করেছে চুরি যাওয়া মিটারগুলো।

বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে একাধিক বার থানায় এফআইআর এর জন্য আবেদন করেও কোন সুফল মেলেনি। এমনকি চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার ও মিটার এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি; গ্রেফতার হয়নি প্রতারক চক্রের কোন সদস্য। ফলে ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে বলে জানান কামারখন্দ সাব জোনাল অফিসের সহকারি জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) কামরুজ্জামান।

জামতৈল গ্রামের ভুক্তভোগী গ্রাহক আব্দুস সাত্তার জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হলে পাম্পের কাছে গিয়ে দেখি আশপাশের সকল মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও আমার সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। পরে বিদ্যুতের সংযোগে স্থলে গিয়ে দেখি মিটার নেই। কিন্তু সেখানে একটি কাগজে প্রতারক চক্রের দেয়া মিটার নম্বর ও তাদের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে টাকা ছাড়া মিটার দেয়া হবে না বলে জানানো হয়। পরে তাদের দেয়া বিকাশ নম্বরে টাকা দিলে মিটারের সন্ধান মেলে।

একই এলাকার চাল কল মালিক রাজা হোসেন জানান, আমার আশপাশের চাল কলের চারটি মিটার চুরির পর প্রতারক চক্রের সদস্যদের ৮ হাজার টাকা দিয়ে মিটারের সন্ধান পেয়েছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের চাল কল মালিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির ঘটনা শুধু কামারখন্দ থানায় নয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমন ঘটনা সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ঘটাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারে না। যারা পল্লী বিদ্যুতে কাজ করে এবং বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এই ধরনর কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন ওসি। তাই দ্রুত চক্রটিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।