আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

এবার ভার্চ্যুয়াল কূটনীতিতে ঢাকা-দিল্লি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: নিয়মিত ও সরব হয়ে উঠেছে ঢাকা-দিল্লি কূটনীতি। দু’দেশের মধ্যে এবার দেখা যাবে ‘ভার্চ্যুয়াল কূটনীতি’। দু’দেশের সম্পর্ক যাতে মিডিয়া অ্যাটেনশনের বাইরে না যায়, তার একটা সাউথ ব্লকীয় চেষ্টা চোখে পড়ে। দীর্ঘ নীরবতার পরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সফরে বেশ বুদবুদ তৈরি হলো।

সেটা যাতে মিলিয়ে না যায় এজন্য গতকাল ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দু’দেশের মধ্যে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিটির সর্বশেষ বৈঠক ১৮ মাস আগে দিল্লিতে হয়েছিল। কিন্তু তারপরে সেই জেসিসি হিমাগারে চলে গিয়েছিল। এখন করোনাকালে শরীরী বৈঠক অসম্ভব, তাই অশরীরী বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

আর এই খবর আজই প্রচার পেলো ভারতের বিদেশমন্ত্রীর টুইটার বার্তায়। অবশ্য এ নিয়ে ঢাকাতেও বাসসের সঙ্গে কথা বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অবশ্য এটা লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বিএসএসকে বলেছেন, তিনি এবং মি. জয়শঙ্কর জেসিসির ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করতে ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টুইটে অবশ্য ‘নীতিগত’ কথাটির উল্লেখ নেই।

জেসিসি’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভার্চ্যুয়ালি বসতে যাচ্ছে। ওই টুইটার বার্তায় প্রকাশ পেয়েছে যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং তার বাংলাদেশি কাউন্টারপার্ট একে আব্দুল মোমেনের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। মি. জয়শঙ্কর তার টুইটার বার্তায় বলেছেন, দুই পক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠানে একমত হয়েছে। অবশ্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি।

দু’দেশের মধ্যে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন বা জেসিসি চলতি মাসের শেষদিকে মিলিত হবে। দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। সোমবারের টেলিফোন আলোচনা সম্পর্কে টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে তার উষ্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা খুব শিগগিরই জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানে একমত হয়েছি। আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবো।’

ঢাকায় পর্যবেক্ষকরা স্মরণ করছেন যে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জেসিসির বৈঠকে সমঝোতা স্মারকগুলো কি বিষয়ে ছিল। যেমন তাতে ছিল, ১৮শ’ বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভারতে প্রশিক্ষণ এবং ভারতের ‘আইয়ুশ’ এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক এবং ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) এর মধ্যে সহযোগিতা। এবং মংলায় অবস্থিত ভারতীয় ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগ সহায়তা দিতে বাংলাদেশের ইকনোমিক জোন অথরিটির সহযোগিতা। কিন্তু এর মধ্যে তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টনের মতো বিষয় ছিল না। এবারের আলোচনায় তা থাকবে বা থাকবে না, সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আজ হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, মহামারির মধ্যেও দুই পক্ষের বৈঠক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে দুই দেশ একমত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, দুই নেতা সামপ্রতিককালে দু’দেশের মধ্যকার ‘কানেক্টিভিটি’ ক্ষেত্রে অগ্রগতি কি ঘটেছে, সেটা তারা আলোচনা করেন। এর মধ্যে গত ৫ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দাউদকান্দি সোনামুড়া দ্বীপের মধ্যকার নৌ চলাচলের বিষয়টি আলোচিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সিমেন্ট নৌযানে করে ত্রিপুরার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে সর্বশেষ জেসিসি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সময়ে জনাব মোমেন এবং তার ভারতীয় কাউন্টারপার্ট সুষমা স্বরাজ নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দেন।