আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

‘ওয়াহিদার মাথার সেলাই শনিবার কাটা হতে পারে’

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: আগামী শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের মাথার সেলাই কাটার সম্ভাবনা রয়েছে। সে পর্যন্ত তাকে হাসপাতালের এইচডিইউতেই (হাই ডিফেন্ডেন্সি ইউনিট) রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে।

রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসা নিচ্ছেন ওয়াহিদা।

বুধবার ঘোড়াঘাট উপজেলা ইউএনওর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এসব কথা জানান হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম।

তিনি বলেন, ওয়াহিদার শরীরের ডান পাশ অবশ ছাড়া সার্বিকভাবে সবকিছু প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। তার পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে, পরিবারের সদস্য এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। আগামী শনিবার ওয়াহিদার মাথার সেলাই কাটা না পর্যন্ত তাকে এচইডিইউতে রাখা হবে। আমরা আশা করছি, শনিবার তার মাথার সেলাই কাটতে পারবো।

ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার ডান পাশটা যে অবশ অবস্থায় ছিল, সেটা ওই রকমই আছে। এছাড়া সার্বিকভাবে সবকিছু প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। তার পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে, পরিবারের সদস্য এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন।

ইউএনও ওয়াহিদাকে স্বাভাবিক খাবার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ডা. বদরুল।

হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান ও ওয়াহিদার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন জানান, ওয়াহিদার ডান পাশে শক্তি নেই কিন্তু বোধ আছে। চিমটি কেটে ব্যথা দিলে বুঝতে পারেন, স্পর্শ করলে বুঝতে পারেন। কিন্তু হাতের কোন শক্তি নেই, হাত নাড়াতে পারেন না। অবস্থার উন্নতিতে ফিজিওথেরাপি চলছে। ফিজিওথেরাপি চলার পরে কতটুকু উন্নতি হয় সেটা সময় হলে বোঝা যাবে।

গেল ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ছয় সদস্যের চিকিৎসক দল প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

অস্ত্রোপচার শেষেই তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তারা। তাৎক্ষণিকভাবে তার সেরে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানানো হয়।

গেল ২ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে ইউএনও ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে ইউএনওকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নিয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি এখন রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।