আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

টিএসসি থেকে শিশু জিনিয়াকে ‘অপহরণকারী’ কে এই লুপা তালুকদার?

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে (৯) ফুচকা খাইয়ে ও ঘোরাঘুরি করিয়ে অপহরণ করা হয়। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন জিনিয়ার মা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার আমতলা থেকে জিনিয়াকে উদ্ধার ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত নূর নাজমা আক্তার লুপা তালুকদার নামে একজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার দিবাগত রাত ১টা দশ মিনিটে মিনিটে নারায়নগঞ্জ জেলা ফতুল্লা থানার আমতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম জিনিয়াকে উদ্ধারসহ অপহরণকারী লুপা তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার ওই মামলায় লুপাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
কিন্তু কে এই লুপা তালুকদার? সমাজের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ছবি রয়েছে লুপা তালুকদারের। এমপি, মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ছবি তুলে ফেলেছেন তিনি। তাই অনেকেই ‘লোপা’কে রিজেন্ট গ্রুপের সাহেদের ‘লেডি ভার্সন’ হিসেবে মন্তব্য করছেন।

লুপা নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় পরিচিত মুখ। অনেক বড় বড় সাংবাদিকের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিসহ এসব খবর এখন ভেসে বেড়াচ্ছে।

লুপা ফেসবুকেও বেশ সক্রিয়। তার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে তার পরিচয়ের বহর। লেখা রয়েছে অগ্নি টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, আওয়ামী পেশাজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র রিপোর্টার নবচেতনা, সিনিয়র রিপোর্টার, সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোহনা টিভি, ডিরেক্টর শীর্ষ টিভি, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক শীর্ষ সমাচার, বাংলাদেশ কবি পরিষদের কবি। লুপা নিজেকে একজন সিনিয়র সাংবাদিক এবং আওয়ামী পেশাজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন।

একজন নেটিজেন বলছেন, ‘অথচ এই নারীর নামে হত্যা, অপহরণ, মানব পাচারসহ বেশ কিছু মামলা ছিল। কিন্তু এসব থাকা স্বত্বেও সে অবাধে সব জায়গায় বিচরণ করেছে। এরকম লুপা আছে সারা দেশজুড়ে। এদের দমাতে না পারলে যে পচন ধরেছে তা ভবিষ্যতে কোনও কিছু দিয়ে থামানো যাবে না। তাই শুদ্ধি অভিযানটা শুরু করা দরকার সমাজের সর্বত্র।’