আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আমার স্বপ্ন ছেলে ক্রিকেটার হোক, ইয়ামিনের মা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ১১ বছর বয়সী শেখ ইয়ামিন। এ বয়সেই রপ্ত করেছে ক্রিকেট খেলার সব কৌশল। থাকে আরামবাগ। ক্রিকেট কোচিং করে পল্টন ময়দানে। মা ঝর্ণা আক্তারেরও স্বপ্ন ছেলে একদিন বড় ক্রিকেটার হবে।

 

ছেলেকে সবসময় উৎসাহিত করে যাচ্ছেন এই মা। নিয়ে যাচ্ছেন মাঠে। সম্প্রতি মা-ছেলের ব্যাটিং-বোলিংয়ের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক দুনিয়ায়। চলছে নানা আলোচনা, গবেষনা।

 

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ছবিটি তুলেছেন ফিরোজ আহমেদ।পাঞ্জাবি পায়জামা পরিহিত ছেলে এবং বোরকা পরিহিত মা। এই ছবির প্রশংসা করছেন হাজার হাজার নেটিজেন।

 

কেউ কেউ আবার সমালোচনাও করেছেন।জানা যায়, মা ঝর্ণা আক্তার এক সময়ের অ্যাথলেট ছিলেন। তাই ক্রীড়াপ্রেমটা সব সময়ের। ছেলের ক্রিকেটের প্রতি মনযোগ বেশি। তাই তার হাতেখড়ি মায়ের কাছেই চলছে।

 

ঝর্ণা আক্তার তার প্রতিক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এমনিতেও আমি খেলোয়াড়। ডিস্ট্রিক্ট চ্যাম্পিয়ন ছিলাম, মুন্সিগঞ্জের মেয়ে আমি। আমার ইভেন্টগুলো ছিল- বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি, গোলক নিক্ষেপ, লং-জাম্প, ৫০০ মিটার দৌড়, ২০০ মিটার দৌড়।

 

এগুলো আমি খেলতাম। এছাড়া আমার পরিবার খেলা ভক্ত। আমার ভাই জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়।তিনি আরো বলেন, ওইখানে বেসবল ফাইনাল হচ্ছিল। এক পর্যায় আমার বাচ্চার সঙ্গে আমি খেলতেছিলাম।

 

কিন্তু আমার পাশে যে, মানুষজন ভিডিও করতেসে, সব সাংবাদিক চলে আসছে আমি ওদিকে খেয়াল করিনি। আমরা দু’জন অনর্গল খেলে যাচ্ছি, আনন্দ করতেসি হঠাৎ দেখলাম মানুষ আমাদের ঘিরে ধরেছে।

 

মনে হচ্ছিল আমরা অ্যারেস্ট হয়ে গেলাম! আমি চাই আমার মতো সব মায়েরা হোক। বাচ্চাদের মন বুঝুক, বাচ্চাদের সঙ্গে একটু খেলাধুলা করুক। মায়ের মতো বন্ধু আর কেউই হতে পারে না।তবে ক্রিকেট অনেক পছন্দ করেন ঝর্ণা।

 

ছেলেরও পছন্দ। তাই তাকে ক্রিকেটার হিসেবে দেখতে চান এই মা- আমার বাচ্চাটাকে মাদ্রাসায় দিয়েছি। ওর ইচ্ছা, ক্রিকেট খেলা। তাই আমি কাজী নজরুল একাডেমিতে ওকে ভর্তি করিয়েছি। আমিও ক্রিকেট পছন্দ করি।

 

আমার খুব স্বপ্ন, আমার ছেলেটা ক্রিকেটার হোক।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এ ছবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সাদেকা বেগম নামের একজন লিখেছেন- কী দারুণ দৃশ্য!

 

দেখে মন ভালো হয়ে যায়। কাজী ইকরামুল হক নামে একজন লিখেছেন- “যারা পর্দাকে এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা মনে করেন, সেই সব বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের জন্য এটা একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। আহমেদ আল আমিন লিখেছেন, অসম্ভব ভালো লাগার ছবি। অপূর্ব দৃশ্য। মনটা ভালো হয়ে গেল।