আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনাকালে লিফট ব্যবহারে ঝুঁকি কতটুকু?

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: করোনার আগে একসাথে ৪-৫ জন লোক লিফটে চড়া অস্বাভাবিক কিছু ছিলো না। আমরা কখনো ভাবিনি একটা সময় সেটা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। করোনা পরবর্তীকালে, যখনই মানুষ লিফটে চড়ে সবার মাঝে সন্দেহজনক মনোভাব দেখা যায়। লিফটে অন্যান্য লোকেরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছে তো? সবাই কি মাস্ক পরেছে? যদি কেউ হাঁচি কিংবা কাশি দেয় তাহলে? লিফটি কি ব্যবহারের পূর্বে স্যানিটাইজ করা হয়েছিলো? আসলে এসব প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।

 

কোভিড-১৯ সবার মাঝেইপরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ব্যাপারে সর্তকতা তৈরি করেছে। সত্যি বলতে, আমরা সবাই জানি কতটা সহজে এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারি এবং প্রকৃতপক্ষে কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। করোনাকালে লিফটে চড়ার বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

 

করোনার ফলে ভ্রমণ এবং যাতায়াতে আমূল পরিবর্তন
করোনার ফলে আমাদের সামাজিক আচরণেও পরিবর্তন এসেছে, গণপরিবহন থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট, ক্যাফে এবং দোকানপাট সব জায়গায় ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তবে, সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক পরিবর্তনটি লক্ষ্য করা যায় লিফট শেয়ারিং এর ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারী পরবর্তী সময়ে ‘হাইজিন প্রাইভেসি’ একটি রীতি বা আদর্শ হয়ে যাবে যা অদূর ভবিষ্যত পর্যন্ত থাকবে।বেশিরভাগ লিফট সাধারণত ৬-৭ ফুট প্রশস্ত হয়, সেক্ষেত্রে আপনি কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে লিফটের লোকেরা যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখবে?

 

করোনা মহামারীতে লিফটে চড়া কতটা নিরাপদ?
লিফটে যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটা নিতান্তই এক অসম্ভব ব্যাপার। কারণ বেশিরভাগ এলিবেটর এবং লিফট এত বড় নয় যে, মানুষেরা ৫-৬ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে তখন, যদি কেউ মাস্ক না পরে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এরিয়া থেকে আসে কিংবা জোরে জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়।

 

লিফটের নিয়মাবলী এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা
সামাজিক দূরত্ব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অনেক দেশে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যেমন: লিফটে বুজার (ইলেকট্রিক ডিভাইস) সংযুক্ত করা, যখন দুজন ব্যক্তি একে অপরের নিকটে আসে তখন তা বন্ধ হয়ে যায়, সুতরাং গুনতে হয় জরিমানা। লিফট ব্যবহারের সময় স্পেস বা দূরত্ব বজায় রাখা এখন ‘নিউ নরমাল’ ব্যাপার অফিসগামী এবং বাইরে যাওয়া মানুষের কাছে। লিফটের ইউটিলিটি বাটন এবং ধাতব পৃষ্ঠ থেকেও উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

 

করোনা সময়ে লিফট ব্যবহার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
সাম্প্রতিক লিফট নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে যে, আক্রান্ত ব্যক্তি লিফট থেকে বের হওয়ার পরও ভাইরাস দীর্ঘ সময়ের জন্য বাতাসে থেকে যায়। এসব কিছু আরও উদ্বিগ্ন করে তোলে, লিফটে চড়া কি আসলেই নিরাপদ? এখন মানুষ সিঁড়ি ব্যবহার করে থাকেন। সব দিক বিবেচনায় রেখেও লিফটগুলো মনে হতে পারে জীবাণুদের আঁতুড় ঘর, অসুস্থ কিংবা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

লিফট ব্যবহারে সর্তকতা
অন্যান্য পাবলিক এরিয়া বা সামাজিক জায়গা থেকে লিফটে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কম। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, যত কম সময় আপনি লিফটে চড়ে ব্যয় করবেন, সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তত কম থাকবে। এর মানে এই নয় যে, আমরা কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া লিফটে চড়বো। কম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা এবং সংক্রমিত হওয়ার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা উচিত। লিফটে চড়ার জন্য কী রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, চলুন জেনে নেয়া যাক।

 

সবসময় মাস্ক পরা
বর্তমানে মাস্ক পরে থাকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলার আর ভাষা রাখে না। আপনি সুস্থ কিংবা অসুস্থ যাই থাকুন, মাস্ক সংক্রমণ ছড়ানো এবং জনবহুল জায়গাতে অন্যের কাছ থেকে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি ৪০-৫০ শতাংশ কমাবে। মানুষের নিরাপত্তার জন্য লিফটে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা উচিত, এমনকি লিফটে আপনি একা থাকলেও। এটি আপনাকে লিফটের বাতাসে ছড়ানো ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার বিপদ থেকে রক্ষা করবে। মাস্কের পাশাপাশি ফেসিয়াল কাভারিং, গ্লাভস ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

ব্যস্ত সময়ে লিফট পরিহার করুনঃ
চিকিৎসাধীন ব্যক্তি এবং বহুতল বিল্ডিং এ থাকা লোকজন সবসময় সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারে না। যতটা সম্ভব অন্যের সাথে লিফট ব্যবহার পরিহার করতে পারলে তা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। লিফটে বেশি ভিড় থাকলে পরিহার করুন। যদি সম্ভব হয়, আপনার তেমন প্রয়োজন না থাকলে লিফটে চড়া থেকে বিরত থাকুন এবং সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

 

দূরত্ব বজায় রাখুন
লিফটে সবসময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই একে অপরের বিপরীত কর্ণারে দাঁড়ানো এবং লিফটের মেটাল যাতে স্পর্শ না করেন তা নিশ্চিত করতে হবে। অল্প সময়ের জন্য লিফটে চড়লে এতোটা আতঙ্কের কিছু নেই। একসাথে ২-৪ জনের বেশি লিফটে না চড়লে দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব।

 

লিফটের নিয়মনীতি এবং জীবাণুমুক্ত রাখুন:
করোনা সময়ে একটি হাঁচিই আপনার পাশের মানুষটিকে সর্তক করে তোলে। হাঁচি, কাশি এমনকি উচ্চ স্বরে কথা বলাও সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই সাবধান হোন, নিজেকে স্যানিটাইজড এবং সুরক্ষিত রাখুন। নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করার মাধ্যমে ভাইরাস এবং জীবাণু থেকে নিজেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা যাবে।