আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ধুনটে ভেঙে পড়া সেই সড়কের সংস্কার শুরু

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সোনামুয়া হাট থেকে হাসাপোটল গ্রাম পর্যন্ত নবনির্মিত পাকা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছেন এলজিইডি। প্রায় ৯ মাস আগে নির্মাণ করা পাকা সড়কটির অন্তত ৫০ মিটার অংশ খালের পেটে ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে একই সড়কের আরো ১৫০ মিটার অংশ। এ ঘটনায় কালের কণ্ঠে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় রবিবার দুপুর থেকে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে সড়কটি পাকা করনের কাজ ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে শেষ করা হয়েছে। সড়কটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ৭৭০ মিটার। সড়কটি নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা। ওই সড়কের পাশ দিয়ে বহমান কান্তনগর খাল। খালের পাশে সুরক্ষা বাঁধ (গাইডওয়াল) ছাড়াই সড়ক নির্মাণ কাজ করায় সড়কটি টিকসই হয়নি। এবারের বর্ষণে সড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে এই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 

এ অবস্থায় সাত দিনের বর্ষণে কান্তনগর গ্রামে সাইফুলের বাড়ির সামনে সড়কের অন্তত ৫০মিটার অংশ খালের পেটে ভেঙে পড়েছে। ফলে ভাঙন স্থানে সড়কটি সরু হয়ে গেছে। এ ছাড়া একই সড়কের আরো প্রায় ১৫০ মিটার অংশ খালের পেটে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সড়কটি ভেঙে গিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এনিয়ে আজ রবিবার কালের কণ্ঠে ‘৯০ লাখ টাকার সড়ক ৯ মাসেই ভেঙে শেষ’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ভাঙা স্থানে বাঁশ দিয়ে প্যালাসাইটিং তৈরি করে সেখানে বালু ভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। সড়কটির আর কোন অংশ যেন ভেঙে খালের ভেতর না পড়ে সেই জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের ভেঙে পড়া পাকা অংশ পর্যায়ক্রমে সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণ কাজে কোন প্রকার ত্রুটি ছিল না। স্থানীয়রা সড়কের পাশে খাল থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সড়কটি টিকসই হয়নি। অতি বর্ষণের কারণে খালে ধসে পড়েছে সড়কের কিছু অংশ। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।

 

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। নবনির্মিত সড়কটি ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।