আজ ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

প্রতিবাদী ওসাকাই ইউএস ওপেনের রানি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: এবারের ইউএস ওপেন টেনিসের শুরু থেকেই বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন জাপানের নাওমি ওসাকা। এমনকি বর্ণ বৈষম্যের আন্দোলনের অংশ হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে সড়ে যেতে চেয়েছিলেন।

 

সেমিফাইনালের আগে নাম প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন। তবে ভাগ্যিস সরে যাননি ওসাকা। যার ফলে গতরাতে দর্শক শূন্য এবারের ইউএস ওপেনে নারী এককের শিরোপা তার হাতেই উঠেছে। ওসাকা পরেছেন এ বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেনের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

 

টুর্নামেন্টের ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও চতুর্থ বাছাই ওসাকা ১-৬, ৬-৩ ও ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন অবাছাই বেলারুশের ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে। ১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট লড়াই করে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মত গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা জিতলেন ওসাকা। ইউএস ওপেনে দ্বিতীয়। অন্যটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে।

 

গত মে মাসে আফ্রিকান-আমেরিকান সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটুতে পিষে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য পুলিশ। ফ্লয়েডের হত্যায় ঐ সময় থেকেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব।

 

সেই প্রতিবাদ এখনো চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইউএস ওপেনের প্রথম থেকে নিজের ম্যাচগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র ওসাকা। প্রতি ম্যাচে তিনি একেকজন আক্রান্তের নাম সংবলিত মাস্ক পরে খেলতে নেমেছেন।

 

ফাইনালে ‘তামির রাইস’ লেখা মাস্ক পরে খেলেছেন ওসাকা। ২০১৪ সালে ক্লিভল্যান্ডে ১২ বছর বয়সের যে শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছিল দেশটির পুলিশ। যেন বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে হার মানতে চাননি ওসাকা।

 

আজারেঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম সেট ৬-১ গেমে হারলেও, হাল ছাড়েননি। ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। পরের দুই সেটে জয় পান ৬-৩ গেমে। ফলে ম্যাচে সমতা আসে। সমতা আনতে পেরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেন ২২ বছর বয়সী ওসাকা।

 

ফাইনাল সেটেও আজারেঙ্কাকে লড়াই করার সুযোগ না দিয়ে ৬-৩ গেমে জিতে ওসাকা শিরোপায় চুমু খান। তিনি ইউএস ওপেনের ইতিহাসে ১৮ বছর পর নারী এককে নিজের ক্যারিয়ারের ৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল জয়ের নজির গড়েছেন। ২০১৮ সালের ইউএস ওপেন, ২০১৯ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, আর এবার ইউএস ওপেন জিতলেন ওসাকা।

 

শিরোপা জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আজারেঙ্কার প্রশংসা করে ওসাকা বলেন, ‘আমি তোমার সাথে আর কোন ফাইনালে মুখোমুখি হতে চাই না। আমি সত্যিই এটি উপভোগ করিনি। এটি অনেক বেশি কঠিন ম্যাচ ছিল। এটা আমার কাছে অনেক অনুপ্রেরণার কারণ আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন এখানে তোমাকে খেলতে দেখেছি। তোমার কাছ থেকে আমি অনেক শিখেছি, তোমাকে ধন্যবাদ।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন জেতার জন্য অতিরিক্ত চিন্তা করি, তখনই আমার খেলায় সমস্যা শুরু হয়। জেতার জন্য শান্ত থাকা খুবই জরুরি। প্রথম সেট পিছিয়ে মনে হচ্ছিল, জেতা হবে না। পরে ভাবলাম, আমি একটা ফাইনাল খেলতে এসেছি। অনেকেই ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখে। আমি সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে। কেন হাল ছাড়ব! আমি এভাবে হারতে পারি না। শেষ চেষ্টাটা করতে হবে। হয়তো আত্মবিশ্বাসই আমাকে শিরোপা এনে দিয়েছে।’