আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চূড়ান্ত জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা নিয়েছেন শি জিনপিং?

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  জাতীয়তাবাদী জিগির তুলে আজীবন ক্ষমতায় থাকার পথ প্রশস্ত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ জন্য সম্প্রতি চীনের পিপলস পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত ২ মেয়াদের অবসান ঘটানোর মধ্য দিয়ে তাঁর আজীবন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি করে নিয়েছেন জিনপিং।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল চীনা জনগণের জন্য নয়, শি-এর এই বিপুল ক্ষমতা তার নিজের রাজনৈতিক জীবনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হবে। নিরঙ্কুশ এই ক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে শি আসলে নিজের জন্যই কবর খুঁড়লেন।

 

দ্য গার্ডিয়ানে সাইমন টিসডালের লেকা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ সালে শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ও রাষ্ট্রপতি হওয়ার মধ্য দিয়ে চীন আসলে একটা অগ্নিগোলকে ঢুকে পড়েছে। শির কর্তৃত্ববাদী ও সম্প্রসারণবাদী নীতির কারণে ভবিষ্যতে চরম মূল্য চুকাতে হবে চীনাদের। এরই মধ্যে শি প্রশাসনের সম্প্রসারণবাদী নীতির কারণে অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিকভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে চীন। মঙ্গোলিয়া, জিনজিয়াং, তিব্বত, হংকং, দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং সংঘাতের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে বেইজিং।

 

টিসডাল বলেছেন, আজীবন ক্ষমতায় থাকার পথ পাকাপোক্ত করতে শি জিনপিং চূড়ান্ত জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে চীনে জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা দ্বিগুণ হয়েছে। যাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য চীনারা এক-ব্যক্তির শাসন এবং আদর্শিক অনুসারী হয় তার জন্যই এই প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। লেখকের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট খুব শীঘ্রই নিজেকে ‘চেয়ারম্যান শি’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন।

 

জিনপিং কেবল চীনের প্রেসিডেন্টই নন, তিনি একইসঙ্গে দলীয় প্রধান ছাড়াও সামরিক বাহিনীরও প্রধান। সংশোধিত সংবিধান শি কে আজীবন প্রেসিডেন্ট বানিয়ে একইসঙ্গে সামরিক বাহিনী ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতেও পরিবর্তনকে অসম্ভব করে তুলেছে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।