আজ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভারতের মূল্যবোধ সমলিঙ্গের বিবাহ স্বীকৃতি দেয় না!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: সমলিঙ্গের বিবাহে স্বীকৃতি দিতে আপত্তি জানাল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সরকারের আইনজীবী দাবি করেন, এ ধরনের বিবাহে মত দিলে তা চিরাচরিত ধ্যানধারণাবিরোধী হবে। আমাদের মূল্যবোধ সমলিঙ্গের বিবাহ স্বীকৃতি দেয় না।

 

দিল্লি হাইকোর্টে মুখ্য বিচারপতি ডি এন পেটেল এবং বিচারপতি প্রতীক জালানের ডিভিশন বেঞ্চে এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তার মতে, আমাদের আইন, মূল্যবোধ বা সমাজ সমলিঙ্গের বিবাহকে স্বীকৃতি দেয় না। এটি সমলিঙ্গে যুগলের মধ্যে প্রতিশ্রুতিমাত্র।

 

ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ১৯৫৬ সালের হিন্দু বিবাহ আইনের আওতায় সমলিঙ্গে বিবাহে স্বীকৃতি ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিজিৎ আইয়ার মিত্র, গোপী শঙ্কর এম, গীতি ঠান্ডানি এবং জি ঊর্বশীর মতো আন্দোলনকারীরা।

 

আবেদনকারীদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালেই সমলিঙ্গের সম্পর্ক অপরাধের আওতা থেকে বাদ দিয়েছেন। ফলে সমলিঙ্গের মানুষদের বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের স্বীকৃতি দেওয়া হোক।

 

হিন্দুবিবাহ আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যুগলের এক জন নারী ও অপর জনকে পুরুষ হতেই হবে- তা উল্লেখ করা নেই। দু’জন হিন্দুর মধ্যে বিবাহের কথা বলা হয়েছে। তবে সেই যুক্তি খণ্ডন করে সলিসিটর জেনারেলের দাবি, এক জন পুরুষ ও নারীর মধ্যেই বিবাহ হতে পারে, যাতে ওই আইনের আওতায় তা নিষিদ্ধ সম্পর্কের মধ্যে না পড়ে।

 

পাশাপাশি তুষার মেহতার আরো বলেন, ২০১৮ সালে নভতেজ সিংহ জোহর মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ৩৭৭ ধারা আংশিক রদ করে সমলিঙ্গের মানুষদের ওপর থেকে কেবলমাত্র অপরাধীর তকমা সরিয়ে দিয়েছিল, এর বেশিও নয়, এর কমও নয়।

 

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী রাঘব আদালতে জানান, সমলিঙ্গের যুগলের মধ্যে বিবাহ হলেও তাতে আইনি বৈধতা না থাকায় স্বীকৃত হচ্ছে না। এর ফলে এই সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের সাম্যের অধিকার খর্ব হচ্ছে। এমনকি এতে তাদের জীবনের অধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী।

 

দু’পক্ষের যুক্তি শোনার পর আবেদনকারীদের আদালত জানিয়েছে, এমন ঘটনা বা উদাহরণের রেকর্ড জমা করতে যেখানে সমলিঙ্গ যুগলের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এই আবেদন মুক্তমনা হয়ে ভাবা উচিত বলেও জানিয়েছে আদালত। আগামী ২১ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

সূত্র: আনন্দবাজার।