আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মঞ্চ নাটক কিংবা আবৃত্তি- কোনো কিছুই মিডিয়ায় আসার আগে করিনি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর একটি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। কিন্তু ফিরতিযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় করোনাভাইরাস। গত ছয় মাস অন্যদের মতো তিনিও ঘরবন্দি। তবে সামাজিক কিছু কাজে তাকে অবশ্য দেখা গেছে। অভিনয় পরিকল্পনা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রতিবেদক সোহেল আহসানের সাথে কথা বলেছেন তিনি।

 

এখন সময় কীভাবে কাটছে?
করোনাকাল আসার আগে তো আসলে নিজেকে সেভাবে সময় দেয়া হতো না। বিভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে আর বাইরে তেমন যাই না, বাসাতেই থাকছি; ব্যায়াম করি। আমার একমাত্র মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার পড়ালেখার দেখভাল করি। এভাবেই দিন কেটে যায়।

 

এর আগে বই পড়ার কথা বলেছিলেন। সেটি কি নিয়মিত আছে?

হ্যাঁ। সময় পেলেই আমি বই পড়ি। অনেক বই এ অবসরে পড়েছি। এর মধ্যে হুমায়ূন আজাদ ও তসলিমা নাসরিনের বই রয়েছে। শুধু গল্প-উপন্যাস নয়, কবিতার বইও পড়ার চেষ্টা করি।

 

সামাজিক কার্যক্রম কেমন চলছে?
করোনাভাইরাস আসার আগ থেকেই আমি সোশ্যাল ওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। একটি বহুজাতিক এনজিওর হয়ে কাজ করছি প্রায় দুই বছর ধরে। করোনার কারণে এখন সেটি বন্ধ রেখেছি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি সক্রিয় থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি গত ঈদের আগে দুটি বহুজাতিক কোম্পানির সচেতনতামূলক কাজ করেছি অনলাইনে। এটিকে এক ধরনের সোশ্যাল ওয়ার্কও বলা যেতে পারে।

 

নতুন একটি ছবিতেও অভিনয় করেছেন গত বছরের শেষপ্রান্তে। সেটির খবর কী?
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালনায় একটি নিরীক্ষাধর্মী ছবিতে অভিনয় করেছি। পরিচালকের অনুরোধে সেটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করছি না। তবে এ ছবির মাধ্যমে নতুন একজন বাঁধনকে দেখা যাবে। অনেক সময় নিয়ে পরিচালক কাজটি শেষ করেছেন। আমি আশাবাদী ছবিটি দর্শকের চিন্তার জগতে দাগ কাটবে। এছাড়া আরও নতুন দুটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছি। এগুলোও সচরাচর নির্মিত হওয়া ছবিগুলোর মতো নয়। এখনও কথা চলছে। হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই ছবি দুটির চুক্তি সম্পাদন করব। তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা ভ্যাকসিন আসার আগে এগুলোর শুটিং শুরু হবে না।

 

আপনি শুদ্ধ উচ্চারণ শেখা শুরু করেছিলেন। সেটির অগ্রগতি কী?
কিছু কাজ থাকে যেগুলো জীবনের জন্য খুব জরুরি। যেমন সঠিকভাবে কথা বলতে পারাটা একটি যোগ্যতা। আমি নিজে নিজেই গুছিয়ে কথা বলার চেষ্টা করি। তবে নিয়ম মেনে এর ব্যবহার কিন্তু আগে শিখিনি। তাই একজন প্রশিক্ষকের মাধ্যমে এ কাজটি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছি। মঞ্চ নাটক কিংবা আবৃত্তি- কোনো কিছুই মিডিয়ায় আসার আগে করিনি। এ উচ্চারণ শেখাটা কাজে লাগাব নতুন ছবি দুটিতে।

 

ক্যারিয়ারে ব্যস্ততার তুঙ্গে থাকাবস্থায় হঠাৎ অভিনয় কমিয়ে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে এখনও খোলাসা করেননি মিডিয়ায়?
আসলে মানুষের জীবনে কিছু সময় কিংবা মুহূর্ত আসে যখন মানুষ নিজের আত্মোপলব্ধির জায়গায় ফিরে যায়। আমি নিজের জীবনটাকে আরও বর্ণিল করার জন্যই তখন অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলাম। বিরতির সময় নিজের স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকে মনোযোগী হয়েছিলাম। যার ফল এখন পাচ্ছি। তবে কাজে ফিরেছি স্বল্প মাত্রায়। হয়তো এভাবেই চলব আগামীর সময়গুলো।