আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: কক্সবাজার জেলার ১ম মরণোত্তর দেহদানকারী সাধন স্যারের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ‘নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই’ স্মারগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান গতকাল রবিবার বিকেল ৪টায় কক্সবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইনে স্মারকগ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাতিস্বত্ত¡ার কবি সাধন স্যারের বাল্য বন্ধু কবি নূরূল হুদা।

 

তিনি শিক্ষক সাধন স্যারকে শিক্ষার প্রতিকৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা অবসরের পর শিক্ষা গুরু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কেউ কেউ হয়ে উঠেন কোনো কোনো জনপদের আলোর কাÐারী। সাধন স্যারকে সাধন-মানব উপাধিতে ভূষিত করেন কবি নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।

 

তিনি বলেন, আমি আগে সাধন স্যারকে ডাঃ বিধান স্যারের বাবা হিসেবে চিনতাম, যিনি সদর হাসপাতালের আইসিইউ’র পরিচালক। এই অনুষ্ঠানে এসে জানতে পারলাম, সাধন শিক্সার মহাগুরু স্যারের সুযোগ্য পুত্র। একেই বলে যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও সমস্ত শিক্ষকক’লের জন্য উনি অমর হওয়ার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

 

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডা. পুচনু, যিনি সাধন স্যারের দেহ মেডিকেলের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমার চাকরি জীবনের এটাই সর্ব উত্তম পবিত্র ঘটনা। অজপাড়া গাঁয়ের একজন স্কুল শিক্ষক অসীম সাহসে মৃত্যু জনিত সকল সংস্কার ও ভয় উপেক্ষা করে নিজের দেহখানি শিক্ষা অর্জনের জন্য দান করে গেছে। মহান এই ঋষিকে প্রণাম।

 

স্মারক গ্রন্থের সম্পাদক ছড়াকার মো. নাছির উদ্দিন বলেন, অত্যন্ত দৃঢ়তায় সম্পন্ন হওয়া এই পুস্তকের সম্পাদক হিসেবে এই দায়ভার আমার। পরবর্তিতে বর্ধিত কলেবরে প্রকাশিতব্য গ্রন্থে এর সংশোধন করা হবে। শিক্ষাগুরুকে সম্মান জানানোর জন্য এইসব তরুণদের এই আয়োজনকে আমি কুর্ণিশ জানাই। এই সময়ের শিক্ষকরা এইখান থেকে শিক্ষা নিবে কিভাবে শিক্ষাগুরু হয়ে উঠতে হয়।

 

অনুষ্ঠানে কৃতজ্ঞতা জানান, সাধন স্যারের সহধর্মিনী মিসেস কল্পনা পাল এবং বড় পুত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান পাল। আরও বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সুরেশ বড়–য়া বাঙালি, রাষ্ট্রবিভাগ সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মনির, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাইকেল পাল, সমাজকর্মি নিবিদিতা বড়–য়া এবং আরও অনেকে। আবৃত্তি পরিবেশন তামজিন আহম্মেদ, শ্রæতি আবৃত্তি অঙ্গনের নিপা দে, জেসমিন সুলতানা, ইষ্টি পাল, প্রিমি নাথ, অর্ক পাল। সঙগীত পরিবেশন করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সায়ন্তী ভট্টাচার্য্য, বিজয় মুখ এর অজয় মজুমদার এবং রিয়া বড়–য়া।

 

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধন স্যারের ছোট ছেলে চ্যানেল আই’র এসিসেন্ট নির্বান পাল। সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এখন বাংলাদেশে ভুরিভুরি উপাচার্য কিন্তু আচার্য খুব কম। প্রত্যন্ত জনপদে জেগে ওঠে কিছু কিছু শিক্ষাগুরু যারা পুরো জনপদকে আলোকিত করে জ্ঞান আচার্যে পরিণত হন যেমন সাধন স্যার হয়েছেন।