আজ ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ঈশ্বরদীতে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২৫

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: আসন্ন পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে বিশেষ বর্ধিত সভায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথাসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঈশ্বরদী শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামালসহ আগত অতিথিদের বরণ করতে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ইসাহক মালিথার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় নেতার সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

এ সময় পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ইসাহক মালিথাসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

হামলার ঘটনায় বিবদমান দুপক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্তে করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন।

 

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, জামায়াত-শিবির অনুসারীরা আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে একের পর এক অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনার পেছনে তারাই দায়ী। এ ঘটনা নৌকার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ২৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে নৌকার বিজয় লাভ করার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।

 

আহত সাধারণ সম্পাদক ইসাহক মালিথা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আবুল কালাম আজাদ মিন্টু নোংড়ামি করে আসছেন। মাঝেমধ্যেই দলীয় কার্যালয়ের একক দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। নির্বাচন বানচালের জন্য তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতদের সামনেই পরিকল্পিতভাবে পৌর মেয়র এ ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাগুলো নিজ চোখে কেন্দ্রীয় নেতারা দেখেছেন। নিশ্চয়ই তারা এ বিষয়টি তদন্ত করবেন। আমি পৌর মেয়রের শাস্তি দাবি করি। যদি আমি ঘটনার দায়ী হই তাহলে আমার যে শাস্তি দেবে তা আমি মাথা পেতে নেব।’

 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথা, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মালিথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজিব মালিথা, যুবলীগ কর্মী নাজিমউদ্দিন রনি, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাবু, রিকশাচালক ওলিউর রহমান, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আজিজ, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম গোলবার হোসেন, যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম, সেলিম রেজা, আওয়ামী লীগকর্মী আবু কালাম প্রমুখ।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, পাবনা সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপিসহ পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদীর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনার সঙ্গে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ধাক্কাধাক্কির ঘটনা থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। দফায় দফায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন ছুরিকাহতসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনোপক্ষই মামলা করেনি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।