আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা : গাঁজাসেবীদের জন্য বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ। ব্যাপক বিস্তার লাভ করা এই ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক এখন সকলের মনে।

 

কিছুদিন আগে এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছিল, ধূমপান এবং ভ্যাপিং করোনাভাইরাস দ্বারা মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। আর এবার এক বিজ্ঞানী সতর্ক করেছেন যে, গাঁজা সেবনও আপনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

 

ইউসিএসএফ সেন্টার ফর টোবাক্যে কন্ট্রোল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের ডা. স্ট্যান্টন গ্লান্টজ এফএফ উইকলিকে বলেন, ‘ধূমপান ফ্লু রোগে আক্রান্ত করে না, ভ্যাপিংও ফ্লু রোগ সৃষ্টি করে না। কিন্তু যারা ধূমপান করেন বা যারা ধূমপায়ীদের পাশে থাকেন তাদের অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’

 

ডা. স্ট্যান্টন বলেন, ‘ধূমপায়ীদের ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে সরাসরি প্রচুর গবেষণা নেই। তবে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে যে, ধূমপান এবং ভ্যাপিং আপনার ফুসফুসে রোগব্যাধির প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

 

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি গাঁজা সেবনের দিকে লক্ষ্য করেন এবং এটিকে ধূমপানের সঙ্গে তুলনা করেন তাহলে তা আলাদা কিছু নয়। আপনি নিকোটিনের বদলে টিএইচসি গ্রহণ করছেন। কিন্তু ফুসফুসের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রভাবিত করার কারণ শুধু নিকোটিনের জন্য হয়ে থাকে বলে মনে হয় না।’

 

দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনাভাইরাস ঝুঁকিতে গাঁজা সেবনের প্রভাব নির্ধারণে এখনো নির্দিষ্টভাবে কোনো গবেষণা নেই। ডা. স্ট্যান্টন আরো যোগ করেন, ‘গাঁজা সেবনের প্রভাব নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা রয়েছে তা খুব সীমিত এবং আমি মনে করি এটি একটি বিশাল সমস্যা।’

 

কিছুদিন ইংল্যান্ডের চিফ মেডিকেল অফিসার প্রফেসর ক্রিস হুইটি ধূমপায়ীদের করোনাভাইরাস থেকে বেশি ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করার পর, এবার ডা. স্ট্যান্টনের এই সতর্কবার্তা এসেছে।

ডা. ক্রিস হুইটি জানিয়েছিলেন, ধূমপান এবং ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং- উভয় ব্যবহারকারীরা ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের তীব্র ঝুঁকিতে থাকে, যা নতুন ভাইরাসজনিত রোগ হিসেবে কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে আরো মারাত্মক হতে পারে। তাঁর মতে, আপনি যদি ধূমপান ত্যাগ করতে চান, তাহলে এখনই উপযুক্ত সময়।