আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন নেইমার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: গতকাল মার্শেইয়ের স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক আলভারো গঞ্জালেজের মাথায় পেছনে চড় মেরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থামেনি। শাস্তি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই শাস্তির মেয়াদ হতে পারে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা!

 

ম্যাচ শেষে নেইমার দাবি করেছেন মাঠে আলভারো নেইমারকে উদ্দেশ করে বর্ণবাদী মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন। টুইট করে শাস্তি চেয়েছেন নেইমারের। গঞ্জালেজকে উদ্দেশ করে টুইটারে লিখেছেন, ‘আমার একমাত্র আফসোস ওই বদমাশটার মুখে ঘুষি মারতে পারিনি।’

 

পরে আরেক টুইটে নেইমার লিখেছেন, ‘আমি হিংস্র আচরণ করেছি কি না, ভিএআর দিয়ে সেটা বিচার করা সহজ। তাহলে যে বর্ণবাদী আমাকে মাঠে বাঁদর বলে গালি দিল তার ছবিটাও সামনে আসুক। আমি রেইনবো ফ্লিক করলে তো ঠিকই আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়। আমি চড় দিলে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওদের কী হবে? এখন ওদের কী হবে?’

 

তবে এক দিন পর নেইমারের সুর একটু হলেও নরম হয়েছে। তবে তাই বলে যে তিনি বর্ণবাদকে ছাড় দিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই তারকা, ‘গত কাল আমি বিদ্রোহ করেছি।

 

আমাকে লাল কার্ড দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, কারণ আমি এমন একজনকে মেরেছি যে আমাকে অপমান করেছে।’ নেইমার খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ অফিশিয়ালদের যেমন সোচ্চার হওয়া উচিত, তেমনটা হয়নি দেখেই তিনি নিজেই কিছু একটা করে দেখাতে চেয়েছিলেন, ‘আমার মনে হয়েছে কিছু না করে মাঠ ছাড়া উচিত হবে না কারণ যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা হয় কিছুই করবেন না, নয় ব্যাপারটাকে দেখবেন না বা গুরুত্ব দেবেন না। গতকাল আমি চেয়েছিলাম যাঁরা খেলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছে, তাঁরা যেন একটা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে ঘটনাটার বিচার করে। তাঁরা যেন বোঝে যে খেলার এমন হীন আচরণের স্থান নেই।’

 

খেলার মধ্যে মুহূর্তের উত্তেজনা থাকবেই। থাকবে আক্রমণাত্মক মানসিকতা, রেষারেষি। তাই বলে সে সুযোগে খেলার সঙ্গে বর্ণবাদ মিশিয়ে কেউ পার পেয়ে যাবে, এটা মানতে পারছেন না নেইমার, ‘খেলার সময় আমি সব সময় খেলতেই চাই।

 

হয়তো রেকর্ডে দেখানো হবে আমি ম্যাচে সফল হইনি। আমাদের খেলায়, আক্রমণাত্মক হওয়া, গালি দেওয়া, অপমান করা – সবকিছুই খেলার অংশ। আপনি নরম-সরম হয়ে খেলতে পারবেন না। আমি এই লোকের (আলভারো গঞ্জালেজ) অবস্থান একটু হলেও বুঝি, কারণ এগুলো খেলারই অংশ।

 

কিন্তু তাই বলে বর্ণবাদ বা অসহিষ্ণুতাও যে খেলার অংশ, তা নয়। এগুলো বরদাশত করা যায় না। আমি কালো, আমি কালো দম্পতির সন্তান, আমার দাদা-পরদাদারাও কালোই ছিলেন। এবং এ কারণে আমি গর্বিত। কালো হয়েছি বলে যে আমি অন্যদের থেকে ভিন্ন, এমনটা মনে করিনা আমি।’

 

নিজের ওপর যে শাস্তি এসেছে, তা মেনে নিয়েছেন নেইমার। তবে এটাও আশা করছেন যেন অপর পক্ষের খেলোয়াড় আলভারো গঞ্জালেজও শাস্তি পান বর্ণবাদী আচরণের জন্য, ‘ওদিন যা ঘটেছে, তার দিকে ফিরে তাকালে আমার খারাপ লাগছে।

 

মুহূর্তের উত্তেজনায় আমরা কত ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে পারি, সেটা মনে হয়েছে আমার। আমার কী ব্যাপারটা তখন পাত্তা না দেওয়ার দরকার ছিল? জানি না এখনো। তবে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে আজ আমি বলতে পারি যে হ্যাঁ, হয়তো পাত্তা না দিলেও পারতাম।

 

কিন্তু তখন যখন ঘটনাটা ঘটছিল, আমি আর আমার সতীর্থরা বারবার রেফারিদের কাছ সাহায্য চেয়েছি, আমাদের বারবার অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এ কারণেই যা হওয়ার হয়েছে! আমরা যাঁরা বিনোদন দানের সঙ্গে জড়িত, তাদের অনেক সময় অনেক কিছু ভাবতে হয়।

 

এক প্রতিক্রিয়া আরেক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং এভাবেই এই ঘটনাটাও ঘটেছে। আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা আমি মেনে নিচ্ছি কারণ আমাকে ঝামেলাহীন ফুটবল খেলতে হতো, যা আমি পারিনি। আশা করব, আমাকে যে অপমান করেছে, তাকেও শাস্তি দেওয়া হবে।’