আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ফেইসবুকের নতুন ট্রেন্ড ‘এভাটারে’ কাঁপছে বাংলাদেশি নেটিজেনরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের নতুন ট্রেন্ড ‘এভাটারে’ কাঁপছে বাংলাদেশি নেটিজেনরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফেইসবুকের নিউজফিডজুড়ে হরেকরকম ডিজাইনের ‘এভাটার’ রীতিমতো ট্রাফিক জ্যামের মতো ভিড় করছে। এই ট্রেন্ড শুরু করেছে স্বয়ং ফেইসবুক।

 

সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ব্যবহারকারীদের জন্য গত মে মাসে এভাটার ফিচার মুক্তি পায়। পরে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ায় ফিচারটি অবমুক্ত করে ফেসবুক। এর পরপরই ফিচারটি ভাইরাল হয়।

 

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এখন এই ফিচারের মাধ্যমে নিজে নিজেই নতুন ইমোজি ডিজাইন করায় ব্যস্ত। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছে, এটি ফেইসবুকের একটি নতুন বিনোদনের মাধ্যম যাতে নতুন করে আরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি নেই।

 

‘এভাটারের’ মতো নতুন নতুন ট্রেন্ড মানুষকে বিভ্রান্ত করছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুপ্তি দাস চৈতি বলেন, ‘আমরা সবকিছুকেই ট্রেন্ড বানিয়ে বিরক্তিকর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। এভাটারের ট্রেন্ডটাও এমন।’

 

তিনি বলেন, ‘আলোচনা করার মতো দেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা সেসব নিয়ে কথা না বলে এসব ট্রেন্ড নিয়ে মেতে আছি। আসলে আমার মনে হয় এখন আমরা ট্রেন্ডকে নিয়ন্ত্রণ করছি না, বরং ট্রেন্ড দ্বারা আমরা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছি।’

 

তবে ‘এভাটার’ ট্রেন্ডকে একদম সাধারণভাবেই দেখছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম পাপ্পু । তিনি বলেন, এটা একটা নির্দোষ মজা। এটার পজিটিভ বা নেগেটিভ কোনো প্রভাব আছে বলে আমার মনে হয় না। সময়ের স্রোতে এই ট্রেন্ড এসেছে আবার সময়ের স্রোতে চলে যাবে।

 

তার মতে, ফেইসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যদি ঝুঁকিতে না পড়ে তাহলে এভাটার ট্রেন্ড গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো না। এমন অনেক ট্রেন্ড এসেছে, ভবিষ্যতেও আসবে।

 

এই ট্রেন্ডকে ভালো দৃষ্টিতেই দেখছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুল আলম। তিনি বলেন, সাধারণ ইমোজির থেকে নিজের এভাটার ইমোজি বেশি ভালোভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পারে। দেখে মনে হয় যেন, কেউ সরাসরি নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। আমার কাছে ফেইসবুক এর একটা ভালো উদ্যোগ বলে মনে হচ্ছে।

 

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আশরাফি দিবা বলেন, করোনার এই সময়ে ঘরবন্দি থাকতে থাকতে মানুষ অনেক কিছু নিয়েই মেতে উঠেছে। এভাটারও এমন একটা জিনিস। সবাই নতুন নতুন ইমোজি ডিজাইন করছে, মজা করছে। এগুলো মজা করার চাইতে বেশি কিছু নাই।