আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

৬ মেয়ে, বাবা ছেড়ে যাওয়ায় কলেজে ভর্তি হতে পারছে না দু’বোন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত দুই বোন হাবিবা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারের। হাবিবা ও সুমাইয়া সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আব্দুল আলীপুল এলাকায় নানাবাড়িতে থাকে। বাবা আব্দুল করিম মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে তাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন। মা আসমা বেগম ১০ হাজার টাকা বেতনে আদমজী ইপিজেডের বেকা গার্মেন্টসে চাকরি করেন।

 

অভাবের মধ্যেও মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে হাবিবা জিপিএ- ৪.৫২ ও সুমাইয়া জিপিএ- ৪.৭১ পেয়ে এবার এসএসসি পাস করেছে। অনলাইনে আবেদন করে সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে তারা দুই বোন। গত রোববার থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও ৫ হাজার টাকার জন্য তারা দুই বোন এখন পর্যন্ত ভর্তি হতে পারেনি।

 

হাবিবা আক্তার জানায়, তারা ৬ বোন। ৪ বছর আগে বড় বোনের বিয়ে হয়। বাকি ৩ বোনের মধ্যে দুইজন পঞ্চম শ্রেণিতে ও আরেকজন শিশু শ্রেণিতে পড়ে। মা আছমা বেগম টানাপোড়েনের মধ্যে থেকেও সংসার চালাচ্ছেন। হাবিবা ও সুমাইয়ার মামারা গার্মন্টসে চাকরি করায় নিজেদের সংসারের খরচ বহন করতেই হিমশিম খান। সেজন্য চাইলেও তারা সহযোগিতা করতে পারেন না।

 

হাবিবা জানায়, ‘আমাদের কোনো ভাই নেই বলে বাবা আমার মাকে অনেক নির্যাতন করতেন। ২০১৭ সালে আমার মায়ের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করার পর সংসারে কোনো খরচ না দেয়ায় আমি দেড় বছর গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসারের খরচ বহন করি।

 

এজন্য আমি স্কুলে কোনো ক্লাসও করতে পারিনি। তারপর আমার মা চাকরি পেলে আমি চাকরি ছেড়ে আবারও লেখাপড়ায় মন দিই।’সে জানায়, আমরা লেখাপড়াটা করতে চাই। আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই আমরা মেয়ে বলে ফেলনা নই।

 

অপর বোন সুমাইয়া বলে, ‘আমরা লেখাপড়া করে ভালো একটা চাকরি করতে চাই। সমাজে আমাদের মতো যারা টাকার অভাবে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য ভবিষ্যতে কিছু একটা করতে চাই। যদি ভর্তি হতে পারি তাহলে কলেজে পড়ার পাশাপশি পার্টটাইম কাজ করব। তাছাড়া আগামী জানুয়ারি থেকে টিউশনি করার চেষ্টা করব।’মা আছমা বেগম বলেন, আমি চাই আমার মেয়েরা লেখাপড়া করুক। আমার মেয়েদের লেখাপড়ার আগ্রহ আছে।

 

মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, সুমাইয়া ও হাবিবার লেখাপড়ার আগ্রহ আছে। অভাবে থাকা সত্যেও ওরা এসএসসিতে ভালো ফল করেছে। আমার বিশ্বাস লেখাপড়ার জন্য ওদেরকে কেউ সহায়তা করলে ওরা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।