আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

গোদাগাড়ী থেকে বিলুপ্তির পথে পদ্ম ফুল

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: এক সময় গ্রামীণ জনপদে পরিচিত কিছু ফুলের মধ্যে পদ্ম ছিলো অন্যতম ফুল। বর্ষণমুখর দিনের শ্রাবণ থেকে শুরু করে শরতের শেষ অবধি এই ফুলের সমাহার দেখা যেত গ্রামের অধিকাংশ পুকুর ও বিলে, লেকে।

 

আধুনিক সভ্যতার বির্বতন, শিল্পায়ন, যৌথ পরিবার গুলি দ্রুত ভেঙে একক পরিবারে পরিনত হওয়ায় চাহিদা বাড়ছে বসট ভিটা ফলে ক্রমাগত খাসপুকুর ও ব্যক্তি মালিকানধীন পুকুর ভরাটের ফলে গোদাগাড়ীতে বিলুপ্তপ্রায় শ্রাবণের রানী খ্যাত পদ্ম ফুল। তবে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের পুকুরে এখনও এ পদ্মফুল থাকলেও এর রূপ আগের মতো নেই।

 

জানা গেছে, অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কারণেই পদ্মকে জলজ ফুলের রানী বলা হতো। পদ্ম ফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি অথবা হালকা গোলাপি রং এর হয়। অনেকেই লাল শাপলা আর পদ্ম ফুলের মধ্যে মিল থাকার কারণে চিনতে ভুল করেন কিন্তু এর বীজ পত্রটা ভালোভাবে দেখলেই পার্থক্য বোঝা যায়।
আবার কাশ্মীর আর ইরানে নীল বর্ণের পদ্ম ফুলের দেখা মেলে যাকে নীল পদ্ম বা নীল কমল বলে।

 

পদ্ম ফুল প্রধানত শরৎকালে ফোঁটে তবে আবার কখনও কখনও বর্ষাকালেও পদ্মের দেখা পাওয়া যায়। পদ্মের পাতায় মুষলধারে বৃষ্টি পড়ায় সৃষ্ট শব্দ প্রকৃতির অনন্য সমৃদ্ধ সম্ভার।

 

বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে বিলপারে থাকা কেউ আশ্রয় নিলে ও পদ্মপাতা তুলে নিয়ে ছাতার মতো মাথায় দিয়ে মাঠ পেরিয়ে যাওয়া। ওই যে পদ্ম পুকুরের পার্শ্বে ছুটে বেড়াতে, প্রকৃতির কী মোহনীয় লোকগাঁথা যেন । ফুল ফোটার সময় এলে দূর থেকে পদ্ম পুকুরের সৌন্দর্য্য দেখতে অনেকে ছুটে যেত অনেকে।

 

এক সময়ে গোদাগাড়ী উপজেলার অনেক গ্রামে গোলাপী রংয়ের পদ্মফুল দেখা যেত। বিশেষ করে ছিত্রাপুর, বাসডোল, ভাসা, মানদীঘি, কালিদীঘি, সোনাদীঘি, বিল পাতিকলা, দুরগাদহ বিল, কমলাপুর বিলসহ বিভিন্ন গ্রামে বড় বড় পকুরে পদ্মফুলের মনমাতানো সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঘরবাড়ি, বাজার, দোকানপাট, খামার নির্মান শিল্পায়নের আগ্রাসনে পুকুর, ঝিল ভরাটের ফলে অনেকটাই বিলুপ্ত পদ্মের সৌন্দর্য্য শোভা।

 

লেখক ও কবি দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, এক সময়ে অবসাদগ্রস্ত প্রকৃতিপ্রেমী মানুষরা নিজের ক্লান্তি ভুলে মনকে প্রফুল্ল করতে ছুটে যেতেন পদ্মপুকুরের সৌন্দর্য্য উপভোগে। তারা অপলক দৃষ্টিতে পদ্ম পুকুরের দিকে তাকিয়ে এক স্বর্গীয় সুখ অনুভব করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে গোদগাড়ীর গ্রামীণ জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পদ্মফুল।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মফুল সত্যিই বিলুপ্ত হতে চলেছে।ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে অন্তত এগুলি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

 

পদ্মফুল হলো প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য এবং সৌন্দর্য। একসময় বাংলাদেশের খাল বিলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মাতো পদ্মফুল। বাংলাদেশের সৌন্দর্যের অনেক খানি সৌন্দর্য জুড়ে ছিল পদ্মাফুল। একসময় শিশু কিশোরদের আনন্দ উপভোগ করতে পদ্মফুলে র কাছে সবাই যেতে। পদ্মফুল ছাড়া বাংলাদেশের সৌন্দর্যের পূর্ণতা অকপল্পণীয়।