আজ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মানবসম্পদ সূচকে দেশের অর্জন ৪৬%

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মানবসম্পদ সূচকে (এইচসিআই) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বেশ পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই সূচকে বাংলাদেশের অর্জন ৪৬ শতাংশ। অর্থাৎ আজকে যে বাচ্চাটি জন্মগ্রহণ করেছে, তার কর্মক্ষমতাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানোর সম্ভাবনা ৪৬ শতাংশ।

 

দক্ষিণ এশিয়ায় যেখানে এই সম্ভাবনা ৪৮ শতাংশ। আর বৈশ্বিকভাবে একটি শিশুর কাজে লাগার সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মানবসম্পদ সূচক ২০২০-এ এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

 

সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশ এগিয়ে। ছেলেদের অর্জন ৪৫ শতাংশ। আর মেয়েদের ৪৮ শতাংশ। গড়ে ৪৬ শতাংশ। অবশ্য মানবসম্পদ সূচক মূলত করে থাকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

 

২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো এইচসিআই শুরু করে বিশ্বব্যাংক। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিবেদন প্রকাশ করল বহুজাতিক সংস্থাটি। এই প্রতিবেদনে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের কোনো তুলনা করা হয় না।

 

কোনো অবস্থান নির্ধারণ করা হয় না। শুধু একটি দেশের অবস্থান কোথায় সেটা দেখা হয়। প্রতিটি দেশের নিজেদের অবস্থান দেখানোর জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করে বিশ্বব্যাংক।

 

একটি শিশু জন্মগ্রহণের পর থেকে তার নিজ দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ কতটুকু পাচ্ছে এবং সেটিকে কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি শিশু জন্মের পর থেকে ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৯৭ জনই পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো।

 

শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়া ও বের হওয়ার সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। তবে স্কুলে শেখার মান সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে শেখার মান সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৩৬৮।

 

যেখানে ৬২৫ স্কোর হলো ভালো মানের। আর ৩০০ হলো সর্বনিম্ন স্কোর। খর্বাকৃতির সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান ভালো নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জন শিশু খর্বাকৃতির। এই সংখ্যা উদ্বেগের। বিশ্বব্যাংক বলছে, চলমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর অবস্থান আরো পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।