আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

এই সময়ে জ্বর হলে অবহেলা একদম নয়‌

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: কোভিড সংক্রমণের আতঙ্ক তো আছেই, তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ৷ কাজেই সতর্ক থাকা এবং জ্বর হলেই ডাক্তার দেখানো একমাত্র উপায়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷

 

কোভিডের প্রতিষেধক টিকা যতদিন না বাজারে আসছে, সংক্রমণ এড়িয়ে থাকাই উচিত৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে পাড়ার ডাক্তার, প্রত্যেকেই এক কথা বলছেন৷ এবং সারা বিশ্বে কোভিডের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ যে স্তরে রয়েছে, ২০২১ সালের আগে তা হাতে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই৷

 

এই পরিস্থিতিতে হামলা শুরু করেছে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ার মতো মরশুমি মশাবাহিত রোগ, ঠিক সময়ে যার চিকিৎসা না হলে একই রকম প্রাণঘাতী হতে পারে৷ মানুষ স্বাভাবিক কারণেই বিভ্রান্ত এবং আতঙ্কিত৷

 

কোভিড পরিস্থিতিতে হাসপাতাল, বা ওই ধরনের কোনও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে সামান্য জ্বরের চিকিৎসা করানোটা কতটা নিরাপদ, সেটাও তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না৷

 

কিন্তু ভাইরাসবাহিত সংক্রামক রোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ যাঁরা, সেই চিকিৎসকেরা বলছেন, চিকিৎসা না করিয়ে ফেলে রাখা, বা ‘‌আর কটা দিন দেখি’ ভেবে অপেক্ষা করাটাই এক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে৷ বরং শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে, চিকিৎসা হলে নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি৷

কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রাক্তন অধিকর্তা ডা. অমিতাভ নন্দী বোঝালেন, কেন দ্রুত চিকিৎসা করা জরুরি৷ কারণ, প্রথমত রোগ শনাক্ত করা জরুরি৷

 

নয়তো, সাধারণ জ্বর, এমনকী পেটখারাপের ক্ষেত্রেও, সেটা কোন রোগের উপসর্গ, তা রক্ত পরীক্ষা না করে বোঝার উপায় নেই৷ কোভিড এবং ডেঙ্গি অনেক ক্ষেত্রেই সামান্য জ্বর বা পেট খারাপ দিয়ে শুরু হতে পারে৷

 

ম্যালেরিয়ার মতো পুরনো রোগের ক্ষেত্রেও উপসর্গ অনেকটাই বদলেছে৷ এবং কোভিড, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া, তার সঙ্গে সোয়াইন ফ্লু— এই চার মারণ রোগের উপসর্গ এখন অনেকটাই একরকম হতে পারে৷

 

এমনকি শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণের মতো বাইরে থেকে বুঝতে না পারা উপসর্গগুলিও এই চারটি রোগের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই এক হতে পারে৷ কাজেই সঠিক রোগ শনাক্ত করা সবার আগে দরকার৷

 

অসুস্থ হলেই কাছাকাছি যে ডাক্তার আছেন, তাঁর কাছে যান এবং তাঁর পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করুন, বলছেন ডাঃ নন্দী৷ এবং কোভিড বা ডেঙ্গির এখনও কোনও ওষুধ না থাকলেও তার নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আছে, যা অনেক রোগীকেই সুস্থ করে তুলছে৷

 

আর ম্যালেরিয়া এবং সোয়াইন ফ্লু’র ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট, কার্যকর ওষুধ আছে, যা ঠিক সময়ে প্রয়োগ করাটা জরুরি৷ কাজেই সামান্য জ্বর হলেও এই পরিস্থিতিতে, এক দিনও দেরি না করে ডাক্তার দেখাতে হবে৷

 

এই প্রসঙ্গে একটা অত্যন্ত জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন ডাঃ অমিতাভ নন্দী৷ বলেছেন, ‘‌‘‌নিজেরা ডাক্তারি করবেন না৷ নিজেরা কারিকুরি করবেন না৷ ওই একটু গরম জল খেলাম, বা পেঁপে পাতার রস খাচ্ছি, বা কেউ বলল, আমি দু’‌ঘণ্টা রোদ্দুরে দাঁড়াচ্ছি, কেউ বলল চায়ের ‘‌কাড়া’ খেয়ে আমি কোভিড তাড়াব, কেউ বলল পেঁপে পাতা খেয়ে আমি ডেঙ্গি তাড়িয়ে দেবো— সম্পূর্ণ ভুল এগুলো৷ কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এসবের৷ এগুলো সবই বুজরুকির দলে পড়ে৷ সুতরাং এগুলো মাথা থেকে দূর করে দিন, ডাক্তারকে দেখান, যথাযথ ব্যবস্থা নিন৷’’