আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর বার্তা মেয়র আতিকের

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: তরুণ প্রজন্মের জন্য মাঠ, পার্ক উপহার দিতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ডিএনসিসির ২৭টি পার্ক, এর মধ্যে কোন কোনোটি অবৈধ দখলে আছে।

 

সেই দখলদারদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যেখানে যারাই দখলে থাকুক আপনারা ছেড়ে দিন নইলে আমাদের বুলডোজার দিয়ে সকল স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের অঙ্গীকার অবৈধ দখল উচ্ছেদে চলবে বুলডোজার।

 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুলশান-২ এর বিচারপতি শাহবুদ্দিন আহমদ পার্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ডিএনসিসি আয়োজিত পরম্পরা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র একথা বলেন।

 

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এই পার্কটি করেছি, এখানে প্রায় ১৭০০ প্রজাতির গাছ আছে, একটি গাছও কাটা হয় নাই। এরকম ঢাকা শহরে ২৭টি পার্ক আছে। যেখানে আমরা প্রত্যেকটি পার্ককে নতুনভাবে সাজাতে চাই।

 

আবার কিছু পার্ক দখলে আছে। আগামী ৩ অক্টোবর দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে।তিনি বলেন, পার্ক যাদের দখলে আছে, আপনারা পার্কগুলো ছেড়ে দিন, না হলে আপনার স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে জনগণের হাতে তুলে দেব, সেটা হবে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অঙ্গীকার।তিনি আরও বলেন, রাস্তা দখল করে আছেন, ফুটপাত দখল করে আছেন, এই অবৈধ মনোভাব ছেড়ে দিন।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে ভালোবেসেছেন, দেশের মানুষকে ভালবেসেছেন। বঙ্গবন্ধু জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে থেকেছেন। কেন জেলে ছিলেন? একটি দেশকে স্বাধীন করার জন্য, জেলে ছিলেন লাল সবুজের পতাকার জন্য। আমরা কি জাতির জনকের চিন্তা চেতনা ধরে রাখতে পারছি? যদি ধরে রাখতে পারতাম তাহেলে কিন্তু বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিতে হত না।এরপর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সন্তানদের দিয়ে ৭৪টি কবুতর উড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

এছাড়া ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে পরম্পরা নামে দুটি গাড়ি উদ্বোধন করা হয়। ডিএনসিসির তত্বাবধানে গাড়ি দুটি পুরো ঢাকা শহরে ঘুরবে। গাড়িতে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিভিন্ন বই রয়েছে।গাড়ি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমরা দুটি গাড়ি ছেড়ে দিলাম। এখানে ৬ জন নারী গাড়ি দুটি পরিচালনা করবে।

 

গাড়ির জ্বালানি খরচ, চালকের বেতন এবং এই ৬ জন নারী কর্মীর বেতন ডিএনসিসি দেবে। যখন গাড়িটি আপনার এলাকায় যাবে আপনারা বই কিনুন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে জানুন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করব। ঢাকা শহর ময়লার শহর, এরকম একটা ধারণা ছিল, সেটা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হব। যারা যেখানেই জায়গা দখল করুন না কেন তা আপনারা ছেড়ে দেন, না দিলে অধিগ্রহণে অভিযান চলবে। আমাদের ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

অর্থাৎ অপরাধী যিনিই হবেন, তিনি ব্যক্তি হিসেবে নয় অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অধিকার কারো নাই।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন, সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন, আসাদুজ্জামান নূর, সুবর্ণা মুস্তাফা, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ।