আজ ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

তিয়েনআনমেন গণহত্যার মতোই রহস্যজনক ‘উহান করোনাভাইরাস’

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  করোনাভাইরাসকে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন চীনা মানবাধিকারকর্মীরা। ১৯৮৯ সালে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষদের বিরুদ্ধে যেমন গর্জে উঠেছিল মানবতাবিরোধী সরকারের কামান, ঠিক তেমনই উহান থেকে শুরু হয়েছে গোটা দুনিয়ার মানবজাতিকে ধ্বংস করার কভিড-১৯ ভাইরাসের।

 

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এখন মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করতে চাইছেন বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক দুনিয়া চীনের এমন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হোক, এমনটাই চাইছেন তাঁরা।

 

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সম্প্রসারণবাদী নীতিমালা নিয়ে সম্প্রতি একটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। চীনা বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন।

 

ওয়েবিনারের বিষয় ছিল- ‘এম্পায়ার হ্যাজ নো ক্লথস : চায়না আন্ডার শি জিনপিং’। অর্থাৎ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আমলে শাসকের কোনো পোশাকই নেই। মানে একেবারেই রাখঢাকের কোনো ব্যাপার নেই।

 

উদ্যোক্তারা হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন, সিসিপি-র শাসনামলে প্রকাশ্যেই লুণ্ঠিত হচ্ছে মানবিকতা। প্রতিবাদের কোনো উপায় তো নেই-ই, সেই সঙ্গে চূড়ান্তভাবে আক্রান্ত হচ্ছে গণতন্ত্রপ্রেমী সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদ করলেই জেল।

 

ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে চীনের মানবাধিকার সংস্থা ‘মানবতাবাদী চীন’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং তিয়েনআনমেন বিক্ষোভের ছাত্রনেতা ঝো ফেংসুও।

 

বর্তমানে দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসের সম্প্রসারণে সিসিপির ভূমিকাকে ‘সন্দেহজনক’ উল্লেখ করে তিনি উহানের ঘটনাকে ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেন।

 

দুটি জায়গার প্রকৃত ঘটনাই বিশ্বের কাছে অজানা। সে কারণেই নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। এতে করে চীনা প্রেসিডেন্টের প্রকৃত রূপ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

 

ঝো ফেংসুও বলেন, কী হয়েছিল সেদিন তিয়েনআনমেন স্কয়ারে? আরো একবার স্মরণ করা যাক, গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষদের নিরীহ জমায়েতের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ মানবাধিকার লঙ্ঘনেরই উদাহরণ।

 

সেদিন সাধারণ ছাত্র-শ্রমিকদের ওপর গর্জে উঠেছিল পিপলস লিবারেশন আর্মির কামান। অগণিত মানুষ মারা যায়। জানা যায়নি মোট মৃতের সঠিক সংখ্যা। তাদের হত্যা করে আজও অনুতপ্ত নয় সিসিপি।

 

বরং আজ অবধি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে অমানবিক সেই কাহিনি। কেউ মুখ খুললেই তার বিরুদ্ধে নেমে আসছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের বীভৎসতার পুরো ঘটনা আজও জানা যায়নি। কারণ এ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা নিষিদ্ধ সেখানে।

 

ঝো মনে করেন, তিয়েনআনমেন স্কয়ারের মতো সিসিপি উহান নিয়েও একই রকম অমানবিক আচরণ করছে। তিনি বলেন, ‘করোনা নিয়ে মুখ খুললেই নেমে আসছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। অতি সম্প্রতি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক খোলা চিঠি লেখায় তাঁকে জেলে ভরা হয়েছে।

 

তাঁর অপরাধ, তিনি চীন সরকারের করোনানীতির সমালোচনা করেছিলেন। আমার কাছে তো মনে হচ্ছে, তিয়েনআনমেন স্কয়ারের সঙ্গে মিল আছে উহানের। দুই জায়গা নিয়েই মুখ খোলা বারণ। দমননীতিকে কাজে লাগিয়ে করোনাকে আজ মহামারিতে পরিণত করেছে সিসিপি।

 

ঝো ফেংসুর মতে, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উচিত তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা। সেই সঙ্গে চীনা অ্যাপস নিষিদ্ধ করা নিয়ে ভারতের পথ অনুসরণ করার জন্য আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে অনুরোধ করেন তিনি।

 

বলেন, ‘টেক পাওয়ারে ভারত খুবই শক্তিশালী। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চীনকে মোকাবেলায় ভারত যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এ বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উচিত হবে ভারতকে অনুসরণ করা।’

 

তিয়েনআনমেন আন্দোলনের এই নেতাকে বহু বছর জেল খাটতে হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ঝো ফেংসুও বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন। দেশে ফিরতে চাইলেও চীন সরকার দিচ্ছে না।

 

তাঁর একটাই দাবি, চীনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে গণতন্ত্র। তাহলেই প্রকাশ্যে আসবে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের প্রকৃত ছবি। উহান নিয়েও মানুষের সন্দেহ দূর হবে। জানা যাবে, কভিড-১৯-এর আসল রহস্য।সূত্র : ওপিন্ডিয়া।