আজ ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে দেহের যেসব ক্ষতি হয়

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:মনে করুন, আপনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ মিটিং-এ আছেন কিংবা কোনও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ভ্রমণ করছেন এবং সেই মুহূর্তে আপনি প্রস্রাব করার তীব্র তাগিদ অনুভব করছেন।

 

তাৎক্ষণিকভাবে আপনার কোনও রেস্টরুমে যাওয়ার সুযোগও নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি কোনও জায়গা খুঁজে না পাচ্ছেন, ততক্ষণ আপনাকে প্রস্রাব ধরে রাখতে হচ্ছে। আমরা প্রত্যেকেই কোনও না কোন সময় এরকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। যা আমাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে তা আমরা বুঝতে পারি না।

 

প্রসাব আটকে রাখলে তা আমাদের শরীরের জন্য কী ক্ষতি ডেকে আনে?

 

হিউম্যান ব্লাডার

মানব দেহের ব্লাডার বা মূত্রাশয় প্রায় ২ কাপ পরিমাণ ইউরিন (প্রস্রাব) ধরে রাখতে পারে। আমাদের শরীরের এই পরিমাণ প্রস্রাব তৈরি করতে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। সুতরাং, ভ্রমণে বা কোথাও বের হলে সহজেই আপনি ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা প্রস্রাব ধরে রাখতে সক্ষম।

 

সমস্যাটি শুরু হয় যখন অঙ্গটি পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আমাদের ব্লাডারটি নমনীয় এবং এর মাঝে একটি রিসেপটর রয়েছে যা মস্তিষ্কে সংকেত প্রেরণ করে যে এটি পূর্ণ। আপনি যখন প্রস্রাব ধরে রাখেন তখন ব্লাডারটি আরও তরল ধরে রাখতে প্রসারিত হয় এবং এই অতিরিক্ত সময় অঙ্গটির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

 

এটি আমাদের গুরুতর চিন্তার কারণ।চিকিৎসকদের মতে, প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর আমাদের ব্লাডার খালি করতে হবে। সাধারণত, একজন ব্যক্তির দিনে ৬-৮ বার প্রস্রাব করা প্রয়োজন। তবে, ঘুরতে বের হলে বা ভ্রমণের সময় আপনি কতবার প্রস্রাব করতে পারেন তা নির্ভর করে আপনি একদিনে কত পরিমাণ তরল গ্রহণ করেন।

 

প্রস্রাব আটকে রাখলে দেহের যেসব ক্ষতি হয়

মাঝেমধ্যে এক’দু বার প্রস্রাব ধরে রাখা তেমন ক্ষতিকারক নয়। তবে, যদি নিয়মিতভাবে এমন হয় তাহলে এর ফলে মূত্রাশয়জনিত বেশকিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।প্রস্রাব ধরে রাখার ফলে সর্বাধিক যে স্বাস্থ্য সমস্যাটি হয় তা হলো, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)।

 

এই জাতীয় ইনফেকশনের ফলে মূত্রাশয়ে জ্বালা করে এবং বারবার প্রস্রাব করার তাগিদ অনুভব হয়। পুরুষের তুলনায় নারীর মধ্যে ইউটিআই বেশি দেখা যায়।এভাবে প্রস্রাব ধরে রাখার ফলে ব্লাডারে উপস্থিত রিসেপ্টরগুলোর সংবেদনশীলতা হ্রাস পেতে থাকে।

 

সময়ের সাথে সাথে এটি আর তীব্র আকার ধারণ করে। এমন এক পরিস্থিতি হয় যেখানে ব্লাডারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বিশেষত কাশি, হাঁচি দেয়ার সময় বা যখন তীব্র প্রস্রাবের তাগিদ থাকে তখন মাঝে মাঝে ইউরিন লিকেজ হয়ে যায়। ১০ ঘণ্টারও অধিক সময় প্রস্রাব ধরে রাখা মোটেও ভালো কিছু নয়।

 

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন

প্রস্রাব ধরে রাখা অবশ্যই আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। তবে ভয়ের কোন কারণ নেই, আপনি যখনই প্রস্রাবের তাগিদ অনুভব করবেন তখন আপনার ব্লাডার খালি করবেন।প্রস্রাব করার সময় যদি আপনার কোনও অসুবিধা হয় তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

 

বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আপনার ব্লাডার খালি করার ব্যাপারটি কঠিন করে তুলতে পারে। সেক্ষেত্রে এ জাতীয় পরিস্থিতি মোটেও হালকাভাবে নেয়া উচিত নয় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা সহায়তা নেয়া উচিত।