আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো আকাশের নিচে…

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:১৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মাত্র ৩০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে চরফ্যাশনের আসলামপুর গ্রামের ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে কেউ কেউ ঘর নির্মাণ বা সংস্কার করে অবস্থান করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই অর্থের অভাবে আর সংস্কার করতে পারেনি বিধ্বস্ত বসতঘরটি। পুরানো টিন খুঁজে মাটির সাথে ঠেক দিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি করে ঘর দাবি করেছেন।

গতকাল শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। আসলামপুর ৮নম্বর ওয়ার্ড মাজুয়ার দোকানের পূর্বপাশের মোল্লা বাড়ির ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার বসবারত ঘরটি টর্নেডোর আঘাতে সম্পূর্ণরুপে বিধ্বস্ত হয়। অর্থের অভাবে ঘরটি মেরামত করতে পারিনি। অন্যের ঘরে বসবাস করছি। অথচ ১৪/১৫ দিন হলেও আজ পর্যন্ত আমি সরকারি কোনো অনুদান পাইনি।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিমের মা হাসিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে আওয়ামী লীগ করে। তবুও আমরা কিছু পাই না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ঘর দাবি করছি।

একই গ্রামের চা ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ও জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারিভাবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শুকনা খাবার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মাধ্যমে  ৩ হাজার করে টিয়া (টাকা) পেয়েছি। এই টিয়া দিয়ে কি ঘর করতে পারুমনি। তাই ঝড় তুপান মাথা নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার গভীর রাতের ঘূর্ণিঝরে চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘর বাড়ি ঘূর্ণিঝড় টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। তাৎক্ষণিক স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এ. কে. এম সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরে আলম ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার এবং তিন হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বিতরণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা দিতে চেষ্টা চলছে।