আজ ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভারতীয় সেনার টহলদারি আটকানোর চীনা প্রচেষ্টাতেই লাদাখ সংঘাত

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:চলতি বছরের মে মাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনাদের স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যবাহী টহল রীতিতে চীনা সেনারা বাধা প্রদান করার কারণেই উভয় দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

 

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে এ দাবি করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।রাজনাথ সিং বলেন, এপ্রিল থেকে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে চীনা সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের অস্ত্রসস্ত্র জড়ো করার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে।

 

এরপর মে মাসের প্রথম দিকে চীন গালওয়ান উপত্যকায় আমাদের সেনাদের স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যবাহী টহল রীতিতে বাধা দেয়, ফলে উভয় দেশের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়।

 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীন পশ্চিম সেক্টরে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) উপর ভারতীয় সীমানা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে কংকা, গোগড়া এবং প্যাংগং লেকের উত্তর তীর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

আমাদের সেনারা এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। আমরা কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে চীনকে এই জাতীয় কার্যক্রম এবং একতরফাভাবে সীমান্তের স্থিতিশীল অবস্থা পরিবর্তনের প্রয়াস বন্ধের অনুরোধ জানাই। এবং এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে এই ধরনের প্রচেষ্টা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

 

জুনের ১৫ তারিখে সীমান্তে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল সে বিষয়ে রাজনাথ বলেন, সেখানে ২০ জন ভারতীয় সেনা তাদের জীবন দিয়েছিল। ৬ জুন উভয় পক্ষের সামরিক কমান্ডারদের বৈঠকে স্থির করা সিদ্ধান্ত লঙ্ঘণ করে চীনা সেনারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালালে ভারতীয় সেনা তা প্রতিহত করে।

 

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, উভয় পক্ষ এলএসিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখবে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করবে না। এই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ১৫ জুন গালওয়ানে চীন একটি হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। আমাদের সাহসী সেনারা তাদের জীবন উৎসর্গ করে দেশের সীমান্ত রক্ষা করেছে এবং চীনা পক্ষেরও প্রচুর ক্ষতি করেছে।

 

ভারতীয় সেনার সাহসীকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের সেনাদের বীরত্ব ও সাহসীকতার প্রশংসা করার জন্য লোকসভার সব সদস্যকে অনুরোধ করছি। আমাদের সাহসী সেনারা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও জীবন উৎসর্গের বিনিময়ে সমস্ত দেশবাসীকে নিরাপদ রাখছে।’

 

তিনি লোকসভায় জানান, লাদাখে ভারতীয় ভুখণ্ডের ৩৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চীন অবৈধভাবে দখলে করে রেখেছে। এর পাশাপাশি তথাকথিত ১৯৬৩ সালের সিনো-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৫১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চীনকে দিয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৯০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের বলে দাবি করেছে চীন।

 

তবে লাদাখে ভারতীয় সেনা আগের মতোই টহল দেবে জানিয়ে রাজনাথ বলেন, বিশ্বের কোনো শক্তি লাদাখে ভারতীয় সেনার টহলদারি আটকাতে পারবে না। পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর টহলদারির ধরণও বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হবে না। বছরের পর বছর ভারত যেভাবে টহল দিয়ে আসছে সেভাবে টহলদারি অব্যাহত রাখবে।

 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ভারত ও চীন উভয় পক্ষই স্বীকার করে নিয়েছে যে সীমান্ত সমস্যা একটি জটিল সমস্যা। শান্তিপূর্ণভাবে এই ইস্যুটির একটি সুষ্ঠু, যুক্তিসংগত এবং পারস্পারিক গ্রহনযোগ্য একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ধৈর্য এবং আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।সূত্র : ইয়াহু নিউজ।