আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আশ্বিন-কার্তিকেও গাছে ফলের রাজা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:অসময়ে গোপালগঞ্জের হর্টিকালচার সেন্টারে ঝুলছে বড় বড় পাকা আম। মেহেদী-২ নামের এই আমের রং উজ্জ্বল হলুদ। একেকটি ফলের ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

 

আমের রং আর ঘ্রাণে মুহূর্তেই জিভে জল এসে যাবে। জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামে অবস্থিত সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে এ ধরনের ছয়টি আম। গত মার্চে গাছে মুকুল ধরে, তারপর আমের গুটি দেখা দেয় এবং অক্টোবরের শুরুতেই আমগুলো পেকে গেছে।

 

হর্টিকালচার সূত্রে জানা গেছে, ফলের রাজা আমের এই জাত দুই বছর আগে থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়। এ বছর প্রথম ফল এসেছে। বছরে দুইবার ফলন দেয়। একবার এপ্রিল মাসে গাছে মুকুল আসে আর ফল পাকে অক্টোবরে (আশ্বিন-কার্তিক)। এরপর নভেম্বরে আবার মুকুল ধরে আর ফল পাকে মার্চে (ফাল্গুন-চৈত্র)। দেশে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত থাইল্যান্ডের এই আমের নাম রাখা হয়েছে মেহেদী-২।

 

এই আমে আঁশ তেমন নেই, আঁটি ছোট হয়। ফলের ৮৮ শতাংশ খাওয়ার উপযোগী। সুস্বাদু এই ফলে চিনির পরিমাণ ২২ শতাংশ। গাছ ও ফলে পোকা-মাকড় বা রোগবালাইয়ের আক্রমণ সাধারণত হয় না।

 

সেন্টারের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গোপালগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে দুই বছর আগে একটি আমের চারা আনা হয়। এটি দেশের অন্য কোনো সেন্টারে নেই। এটি বছরে দুইবার ফল দেয়।

 

দুই বছর পরিচর্যার পর এখন গাছটির ফল পেকেছে। এ ছাড়া দুই শতাধিক প্রজাতির ফলমূলের গাছ ও চারা আমরা বিক্রি করে থাকি।’ তিনি আরো বলেন, শুধু পেশাদার ফল চাষিরাই নয়, দেশের বেকার তরুণ-যুবারা বিভিন্ন প্রকারের ফলের চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারে।

 

ব্রুনেই কিংসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের আম, জাম, লিচু, নারকেল, লেবু, কলা, জাম্বুরা, মাল্টা, ড্রাগন, ডুমুর, খেঁজুর, টক আতা, সবেদা, কফি, রাম্বুটান, অ্যাভোকেডো, থাই নারকেল, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল ও ঔষধি গাছের চারা রয়েছে এখানে। চারাগুলো সরকার নির্ধারিত স্বল্পমূল্যে বিক্রি হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সেন্টারটির সূত্রে শুধু ওই এলাকার কৃষকই নন, আশপাশের অঞ্চলের শৌখিন ও পেশাদার ফল চাষিরা এখন নিজ নিজ বাগান তৈরি ও সম্প্রসারণে উৎসাহী হচ্ছেন। বিশেষ করে এ জেলায় মাল্টা চাষ করে অসংখ্য কৃষক লাভের মুখ দেখছেন।

 

রাতইল গ্রামের বেল্লাল আহম্মেদ বলেন, ‘এখান থেকে চারা নিয়ে মাল্টাবাগান করেছি। প্রচুর পরিমাণে ফল হয়েছে। ফলগুলো খুব মিষ্টি ও রসালো। নিজেরা খেয়েছি ও বিক্রি করে উপার্জন করেছি।’

 

হর্টিকালচার সেন্টারে কথা হলো একই গ্রামের আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চার বছর আগে আম, লেবু, নারকেল চারা নিয়ে বাগান করেছি। অনেক গাছে ফল ধরেছে। সেগুলো বিক্রি করে আমার সংসার চলে এখন।’