আজ ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নগদ প্রণোদনায় রেমিট্যান্সে রেকর্ডের বন্যা

প্রথমবার্তা,প্রতিবেদক : করোনা মহামারিতে দেশের অর্থনীতি থমকে ছিল। অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকে নেতিবাচক অবস্থা থাকলেও রেমিট্যান্সে যেন উড়ন্ত গতি। এই গতির কারণে অর্থবছরের আড়াই মাসেই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে।

 

গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্স খাত ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। এর প্রধান কারণ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। চলতি অর্থবছরেও এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। মূলত প্রণোদনা জাদুতেই রেমিট্যান্সে রেকর্ডের বন্যা বইছে।

 

২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সর্বপ্রথম রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ঘোষণা করে। এর ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর গতি বেড়ে যায়। গত অর্থবছরে হয়েছে একের পর এক রেকর্ড।

 

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও এই খাতে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে। এ জন্য বাজেটে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই পরিমাণ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

 

২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার কারণে ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে দুই টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। সারা দেশের ব্যাংক শাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও এনজিওদের মাধ্যমে তা পৌঁছে যাচ্ছে সুবিধাভোগীদের কাছে।

 

প্রণোদনার কারণে মহামারির মধ্যেই চলতি অর্থবছরের আড়াই মাসে ছয় বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ৫০ হাজার ৮৬৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে দেড় গুণ বেশি। এই রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রবাসীরা এক হাজার ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নগদ সহায়তা পেয়েছে।

 

নগদ প্রণোদনার পাশাপাশি রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রেও প্রবাসীরা পাচ্ছেন নানা ছাড়। প্রবাসীদের পাঠানো পাঁচ হাজার ডলার বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ প্রণোদনায় কোনো প্রশ্ন করা হচ্ছে না। জমা দিতে হচ্ছে না কোনো কাগজপত্র।

 

তবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ এই অঙ্কের বেশি হলে প্রাপককে প্রেরকের পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র অবশ্যই জমা দিতে হবে। আর ব্যবসায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্সের কপি দাখিল করতে হবে। দুই মাসের মধ্যে এসব নথিপত্র দাখিল করতে হবে। কাগজপত্র দাখিল করলেই মিলবে নগদ সহায়তা।

 

রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো ঝামেলা নেই। প্রবাসীরা যে ব্যাংকে প্রাপককে রেমিট্যান্স পাঠান সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নগদ প্রণোদনার টাকা জমা হয়ে যায়। প্রাপক সে টাকা তোলার সময় ব্যাংকই তাঁকে প্রণোদনার টাকা দিয়ে দেয়।

 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো প্রবাসী যদি ১০০ টাকা রেমিট্যান্স পাঠান তাহলে প্রাপক ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সময় পাবেন ১০২ টাকা। আর টাকার পরিমাণ সীমা অতিক্রম করলে নথি বা প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই নগদ প্রণোদনা পেয়ে যান প্রাপক।