আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে লাশ হলেন মামুন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:কেরানীগঞ্জে ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলেন মো. মামুন (৩৫)। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ স্ত্রী পারভীনকে (৩০) আটক করেছে। গত শুক্রবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নে হাফিজ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হাফিজ পারভীনের বড় বোনের স্বামী।

 

তিন সন্তানের বাবা মামুন চকবাজার এলাকায় একটি প্লাস্টিকের কারখানায় কাজ করতেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হাফিজ ও তাঁর স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

 

মামুনের ভাগ্নে মো. কামাল মিয়া জানান, মামুন চকবাজার ইসলামবাগ এলাকার মনা হাজির গলিতে নিজের বাসায় থাকতেন। শুক্রবার রাতে তাঁকে তাঁর স্ত্রীর বড় বোনের বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

রাতে পারভীন মামুনের ভাগ্নিকে ফোন করে জানান, মামুন ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কামাল বলেন, ‘আমরা ভোরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি, মামার মরদেহ মাটিতে পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিই।’ মামুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কামাল।

 

মামুনের বাবা আব্দুল রাজ্জাক মিয়া বলেন, মামুন বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। কিন্তু সেখানে না গিয়ে স্ত্রীর ফোন পেয়ে স্ত্রীর বড় বোনের বাসায় বেড়াতে যায়।

 

তিনি বলেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে পুত্রবধূ ও তার বড় বোনের বিবাদ ছিল। তবে কী কারণে বিবাদ তা কখনো বলেনি সে। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কথা জানতে পারায় মামুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন বাবা। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।

 

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা যেহেতু রহস্যজনক, তাই যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামুনের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বাবা আব্দুল রাজ্জাক মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন।’