আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মাত্র ৫ শতাংশ ছাদে রয়েছে বাগান

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ছোট্ট দেশ ভিয়েতনাম। দেশটির মোট সবজি আবাদের অর্ধেকটাই জোগান দেয় ছাদবাগান। অন্যদিকে ভূমিকম্পের দেশ জাপানের টোকিওতে ছাদের আয়তনের কমপক্ষে ২৫ শতাংশে বাগান করাটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজধানী ঢাকার মোট ছাদের চার ভাগের এক ভাগেও বাগান নেই। সাড়ে চার লাখ ছাদের মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে মাত্র ৫ শতাংশে রয়েছে বাগান। কারণ ছাদবাগান নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কোনো সংস্থা কাজ করছে না। সরকারের দু-একটি প্রকল্প থাকলেও বাগানের দিকে খুব একটা মনোযোগ নেই।

 

এদিকে ২০০৮ সালে পাস হওয়া মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী রাজধানীতে ভবন তৈরির নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ ফাঁকা জায়গা রাখার নিয়ম রয়েছে। বহুতল বলতে আটতলার বেশি ভবনকে বোঝানো হয়। ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় ফাঁকা জায়গা রাখার বিধান থাকলেও ছাদবাগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সেখানে ঠাঁই পায়নি। ছাদবাগানের বিষয়টি আইনে থাকলে বাধ্যতামূলকভাবে তদারকি করতে হতো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক)।

 

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন ভবন নির্মাণ নীতিমালায় ছাদবাগানের বিষয়টি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় বাধ্যতামূলক ছাদবাগানের বিষয়টি রাখা উচিত বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। এর বাইরে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) মাধ্যমে ছাদবাগান বিষয়টি উৎসাহিত করা সম্ভব। কারণ রিহ্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিকভাবে আবাসন নিয়ে কাজ করে। এর বাইরে ছাদবাগানের বিষয়টি নিয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন স্থপতিরা।

 

তবে আইনে না থাকলেও বাগান করার উপযোগী ভবন রিহ্যাবের সদস্যরা তৈরি করছে বলে জানিয়েছে রিহ্যাবের সদস্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় ছাদবাগানের বিষয়ে কিছু বলা নাই। তবে বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ ফাঁকা জায়গা রাখার নিয়ম রয়েছে। ঢাকার মতো দূষণের শহরে ছাদবাগান বাধ্যতামূলক করলে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ত।’

 

রিহ্যাবের পরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ছাদের বিষয়টি আইনে না থাকলেও ভবন তৈরির সময় ছাদকে বাগানের উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এর বাইরে ভবনের বারান্দা এবং ফাঁকা জায়গায় সবুজায়ন করার ব্যাপারেও স্থপতিদের বিশেষভাবে বলা হয়। আধুনিক ভবনগুলোতে ছাদবাগানের জন্য আলাদাভাবে জায়গাও রাখা হয়।’বাগান বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদবাগান উৎসাহিত করতে দুটি প্রকল্প রয়েছে। তাদের কাজের পরিসর খুবই ছোট। তবে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরাসরি এবং অনলাইনে ছাদবাগান বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

 

ঢাকায় ছাদবাগানবিষয়ক প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। দক্ষ প্রশিক্ষকও নগণ্য। ছাদবাগান করার প্রয়োজনীয় উপকরণও সহজলভ্য নয়। এ ছাড়া ছাদ ভেঙে যাবে বা স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাবে—এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে অনেকের। ঢাকায় বাগান পরিচর্যার প্রশিক্ষিত মালির সংখ্যাও কম। বহু মালিকানাধীন ভবনে একক ব্যক্তি চাইলেও বাগানের জন্য ছাদ ব্যবহার করতে পারেন না।

 

এমনকি ছাদবাগান নিয়ে গবেষণারও ঘাটতি রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন ছাড়া শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদে বাগান করার প্রতি আগ্রহ কম মালিকদের। সিটি করপোরেশন ও কৃষি সম্প্রসারণের যৌথ উদ্যোগেরও সংকট রয়েছে।শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাসনাত সোলায়মান বলেন, ‘ছাদবাগান বিষয়ে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ রয়েছে ঢাকায়।

 

প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব ছাড়াও আইনি বাধ্যবাধ্যকতা না থাকা ছাদবাগানের অন্যতম অন্তরায়। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি নিলে এবং ছাদবাগানবিষয়ক হেল্পডেস্ক চালু করলে নগরবাসী উদ্বুদ্ধ হতে পারে।’রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ আইনে ছাদবাগানের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় ভবন নির্মাণ নীতিমালায় ছাদবাগানের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’