আজ ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বন্যায় সিরাজগঞ্জের কাজিরপুরের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: দফায় দফায় বন্যায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার কৃষকের প্রায় ৩৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে চলতি মৌসুমে। উপজেলা কৃষি অফিস ইতোমধ্যে ক্ষতি নিরূপণ করেছে।

 

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফা বন্যায় প্রায় ১২ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন, পাট, শাকসবজি, মরিচ ও ভুট্টার চাষ হয়েছিল।

 

বন্যার পানি নেমে যাবার সাথে সাথে কৃষকরা আবারো জমিতে নানা ফসলের চাষ করেন। কিন্তু এর পর তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা বন্যায় কৃষকের সবজি, কলাই, মরিচ, ভুট্টা, কলা মিলে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

 

পানি আবারো নেমে গেলে পলি সমৃদ্ধ জমিতে আশায় বুক বেঁধে কাজিপুরের কৃষক গাইনজা, করঙ্গা ধান রোপণ করে। সেইসঙ্গে তারা মরিচ ও মাসকলাই বুনে রাখেন।

 

কিন্তু চতুর্থ দফা বন্যায় সেসব ফসলও পানিতে তলিয়ে যায়। আর এর ১৫ দিন পর মৌসুমের শেষ বানের পানিতে কৃষকের স্বপ্ন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।শেষ বন্যার আগে কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিস নিজেরা ধানের চারা রোপণ করে বিনামূল্যে কৃষকের মাঝে বিতরণ করেছিল।

 

তাও শেষ হয়ে গেছে।নাটুয়ারপাড়ার কৃষক রফিক, খাশরাজবাড়ির জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আমাদের এহন আর চাষ করার অবস্থা নাই। সব শেষ হয়া গ্যাছে।

 

‘নতুন মাইজবাড়ির লিমন মিয়া বলেন, ‘সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে শেষবার সরকারি চারা নিয়ে তিন বিঘাত লাগাইছিলাম। কিন্তুক ১০ দিন পরই তলায়ে সব শ্যাষ। এহন ধান নাই, কিন্তুক ঋণ থাইকল।

 

‘এদিকে পানি নেমে যাওয়ায় কিছু নদীর কোলা, পলিসমৃদ্ধ কিছু জমি, অথবা নদীর খাড়িতে গাইনজা ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। তবে টানা চাষ করে মার খেয়ে প্রচণ্ড অর্থকষ্টের কারণে কৃষক আর চাষে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না।

 

কাজিপুরের সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের কৃষকদের অবস্থা রফিক, জয়নালদের মতোই।কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘ইতোপূর্বে সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে সরকারিভাবে তেমন কোনো প্রণোদনার ঘোষণা আসেনি।’