আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মিশ্র ইউরিয়ায় ধানের অধিক ফলন তবু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিক্রেট মেশিন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিসি আইসি, সাব ডিলার ও কৃষকরা কৃষি অফিসের সহায়তায় নিজ উদ্যোগে মিশ্র গুটি ইউরিয়া ও মিশ্র এনপিকে সার তৈরির ব্রিকেট মেশিন কিনেছিলেন।

 

নিজেরা সার তৈরি করে স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষকরা নিজেদের আগ্রহেই এই সার ব্যবহার করতেন। বছর তিনেক ব্যাপকহারে এর ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু এই সার থেকে কৃষকরা ধীরে ধীরে এর ব্যবহার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন।

 

উপজেলায় সাতটি ব্রিকেট মেশিন নিয়মিতভাবে এর উৎপাদন চালিয়ে আসলেও বর্তমানে পাঁচটি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি দুইটি মেশিন এখনো চালু আছে। উৎপাদন খরচ কম ও ফলন বেশি হলেও কৃষকরা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় মেশিনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

 

দামুড়হুদা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাউলি গ্রামের আজিজুর রহমান, বুইচিতলা গ্রামের রুহুল আমিন, দেউলি গ্রামের সানোয়ার হোসেন, কেবপুর গ্রামের টুটুল, কলাবাড়ী গ্রামের শাহিন আলম ও লোকনাথপুর গ্রামের নূর আলম টুটুল এই ব্রিকেট মেশিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্টের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকার মূল্যের মেশিন ভর্তুকি মূল্যে ৪০ হাজার টাকায় ২০১৩-২০১৪ আর্থবছরে কেনেন।

 

উৎপাদিত সার তাঁরা বিক্রি করে আসছিলেন। প্রকল্পের বিভিন্ন ধরনের প্রচার প্রচারণা ও কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে কম খরচে উৎপাদন বেশি হওয়ায় বছর তিনেক এর ব্যবহার ব্যাপকহারে চলে। পরে ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমতে শুরু হয়। একে একে পাঁচটি মেশিন বন্ধ হয়ে যায়।

 

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গার বিসিআইসি ডিলার শম্ভু গোপাল বোস ও বুইচিতলা গ্রামের রুহুল আমিনের মেশিন দুটি কোনোরকম চালু থাকে। বর্তমানে পাঁচটি বন্ধ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

 

হাউলি গ্রামের সার উৎপাদনকারী আজিজুর রহমান, দেউলি গ্রামের সানোয়ার হোসেন ও কলাবাড়ী গ্রামের শাহিন আলম বলেন, এলাকার কৃষকদের সুবিধার জন্য ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ভতুর্কি মূল্যে প্রকল্প থেকে নেওয়া মেশিনে গুটি ইউরিয়া ও মিশ্র গুটি এনপিকে সার ব্যবহার করে কৃষকরা ধান চাষে ভালো লাভবান হচ্ছিলেন। এর ব্যাপক চাহিদাও ছিল। কিন্তু বছরতিনেক পর ধীরে ধীরে এর চাহিদা কমতে শুরু করে। একপর্যায়ে আর চালানো সম্ভব হয়নি।

 

বিঘাপ্রতি গুড়া ইউরিয়া ৫০ কেজি ২০ কেজি টিএসপি এমপিসহ বিভিন্ন ধরনের সার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ ইউরিয়ার সংমিশ্রনে তৈরি এনপিকে ৫৭০ টাকা ও দুটি লেবার ৫০০ টাকাসহ অন্যান্য সার মিলে মোট এক হাজার ৪৭০ টাকা বিঘাপ্রতি খরচ হয়। যা গুড়া ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সারের তুলনায় প্রায় এক হাজার ৩৫ টাকা কম।

 

আক্তার হোসেন নামের এক কৃষক জানান, মিশ্র গুটি সার ও মিশ্র এনপিকে সার মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। এটি কৃষকদের জন্য বাড়তি ঝামেলা তৈরি করে। এ কারণে তারা এই সারের পরিবর্তে গুড়ো সার ব্যবহার করেন।

 

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, গুটি ইউরিয়া ও গুটি এনপিকে সারে খরচ কম হয় ও ফলন অনেক বেশি হয়। এই সার ধানক্ষেতে কেবল একবার প্রয়োগ করতে হয়। গুড়া সারের মতো বারবার প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না।

 

মিশ্র এই সারে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ ফলন বেশি হয়ে থাকে। আমরা সব সময় চাষিদেরকে গুটি ইউরিয়া অথবা এনপিকে গুটি সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কোন প্রকল্প পেলে আবারো চাষিদের উদ্বুদ্ধ করে এই সার ব্যবহারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।