আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : বাড়িতে সবজি চাষ করছেন হালুয়াঘাটের কৃষকরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাচল প্লাবিত হয়। সেই সঙ্গে অনেক আবাদি কৃষি জমি তলিয়ে যায়। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় উপজেলার ৩৮৪ জন কৃষক তাদের বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করছে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৩২ জন করে মোট ৩৮৪ জন কৃষককে বাড়ির আঙিনায় বেড আকারে সবজি চাষ করার জন্য লাল শাক, পালং শাক, ঢেরস, সিম, গিমা কমলি, পুইশাক, শীত লাউ, মিষ্টি লাউ, করলা, বরবটি, ডাটা, শশা ও ডাটাসহ ১৩ রকমের বীজ কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সবজি বাগানের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বেড়া তৈরি, সার ও আগাছা পরিষ্কারের জন্য মোট ১ হাজার ৯০০ টাকা প্রণোদনা বিকাশের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কৃষকরা।

গাজিরভিটা ইউনিয়নের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, বর্তমান এই সময়টাতে কোনো কাজ থাকে না। বাড়ির আঙিনা পতিত থাকে। আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগীতায় বাড়ির আঙিনায় ৫ শতক জমিতে বেড-এর মাধ্যমে বীজ বুনেছি। বর্তমানে আমার রোপণকৃত জমিতে ফলন আসতে শুরু করেছে। এতে আমার পরিবারের চাহিদা পূরণ হবে।

গাজিরভিটার ইউনিয়নের কৃষক শমসের আলীর স্ত্রী রহিমা বলেন, স্বামী দিনমজুর। নিজেদের বাড়ির সামনে ২ শতক পতিত জায়গা ছিল। কৃষি অফিসের সহায়তায় আমার স্বামী ও আমি এখানে বেড করে সবজি বুনেছি। এখন আমি নিজেই এটার পরিচর্যা করি। নিজের বাড়ির আঙিনায় এমন সবজি বাগান করে আমি খুবই আনন্দিত। আমার আমাদের পরিবারের শাক-সবজির চাহিদা এখান থেকে পূরণ হবে।

গাজিরভিটার ইউনিয়নের আরেক কৃষক মনিক মিয়া বলেন, আমার বাড়ির আঙিনায় ৩ শতক পতিত জমিতে বেড করে সবজি চাষ করেছি। এখানে যে এতো সুন্দর ফলন হবে আমি আগে বুঝতে পারিনি। আমি বেশ কিছুদিন যাবৎ বাজার থেকে শাক-সবজি ক্রয় করি না। আমার উৎপাদিত ফলন আমার পরিবারের চাহিদা মিটে যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান প্রথমবার্তাকে বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৮৪ জন কৃষকের পরিবারে সবজি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা এসব পরিবারে সবজি চাষের বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করেন এবং নতুন নতুন কৃষকদের বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।