আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পথ ধসে যাওয়ায় বাঁশের মাচা দিয়ে চলাচল করছেন গ্রামবাসীরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: এক সময় বলতে গত মাস সাতেক আগেও নদীর পাড় বেয়ে চওড়া সড়ক পথ ছিল। তবে তা ছিল না সরকারি সড়ক পথ। প্রায় এক হাজার ফুট এ সড়ক পথ বেয়ে পায়ে হেঁটে কিংবা হালকা বিভিন্ন বাহন নিয়ে গ্রামবাসীদের চলাচল ছিল। এখন সে পথে প্রায় একশ ফুট অংশে পায়ে হেঁটে চলতেই এক ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেখানে পায়ে হেঁটে চলতে গ্রামবাসীরাই বাঁশের মাচা ফেলে চলাচল করেছে। এ চিত্র সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পারতেতুলিয়া গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানা গেছে, সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের পারতেতুলিয়া খেয়াঘাট থেকে কচুয়া নদী পাড় বেয়ে আলম সরকারের দোকান পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় এক হাজার ফুট। অতীতে সড়কপথ বলে পরিচিত নদী পাড়ের এ অংশটুকু বেশ চওড়া ছিল বলে জানানো হয়।

গ্রামবাসীরাই জানায়, এটি সরকারি কোনো সড়কপথ নয়। এখানকার বসতি পরিবারগুলো বহু বছর আগে থেকেই নদী পাড়ে তাদের নিজেদের ছেড়ে দেওয়া জায়গা সড়কপথ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ পথে পারতেতুলিয়া গ্রামবাসীরা ছাড়াও ভেল্লাবাড়ি গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ উল্লাপাড়া শহরে আসা যাওয়া করেন। পারতেতুলিয়া খেয়াঘাটে কচুয়া নদীর ওপর জাতীয় সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের একান্ত উদ্যোগে স্থানীয় এলজিইডি থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। উপজেলা সদরের সাথে পারতেতুলিয়া হয়ে ভেল্লাবাড়িসহ আরো কয়েকটি গ্রামের সড়কপথে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়তে ব্রিজটি নির্মাণ হচ্ছে।

গত মাস সাতেক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে কচুয়া (বিলসুর্য্য) নদী পুনঃখননকালে পারতেতুলিয়া নদী পাড়ে সড়কপথ বলে চিহ্নিত বেশ কিছু অংশ ধসে গেছে বলে জানা যায়। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের নবীরুল ইসলামের বাড়ির বসতঘর ঘেঁষে প্রায় ৫০ ফুট লম্বা বাঁশের মাচা ফেলা হয়েছে। এছাড়া আরো একাধিক জায়গায় দুই থেকে আড়াই ফুট চওড়া পথ রয়েছে। এ পথটুকুর বর্তমান দশায় এখন আর হালকা যানবাহন নিয়ে চলাচল করা যায় না। গ্রামবাসীরাই পায়ে হেঁটে চলতে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বাঁশের মাচাটি নির্মাণ করেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পারতেতুলিয়ায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে। এতে ৪ কোটি ৪১ লক্ষ ৬ হাজার ৬ শ ৭ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

আগামী বছরের জুন মাস নাগাদ ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে তিনি আশার কথা জানিয়ে আরো বলেন, এর নির্মাণ শেষ হলে উপজেলা সদরের সাথে পারতেতুলিয়াসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর সড়কপথের সহজ ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পারতেতুলিয়ায় নদী পাড় হয়ে প্রয়োজনীয় অংশে সড়ক নির্মাণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হবে।