আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মাধবপুরে ভুমি দস্যুদের কবল থেকে শ্মশানের ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন,থানা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মাধবপুরে ভুমি দস্যুদের কবল থেকে পানছড়ি মৌজার এস এ ১৩৮ ও ১৪৩ দাগের ১ একর ২০ শতক শ্মশানের ভুমি ও সরকার হতে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ভুমি পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেন আশু রবিদাস।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার, এস এসপি সার্কেল,মাধাবপুর থানার ওসির নিকট বার বার ধর্না দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগি আশু রবিদাস।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মাধবপুর থানার হরিতলা গ্রামের মৃত নানু রবিদাসের পুত্র আশু রবিদাস স্থায়ী বন্দোবস্ত মোকদ্দমা নং-৬৪৪/৮৮-৮৯ বলে বিগত ২৩-০৮-১৯৯৯ইং তারিখে সরকার হতে স্থায়ী বন্দোবস্ত পান। সরকার তাকে ৩৮২১/৯৯নং রেজিষ্ট্রারী দলিল মুলে স্থায়ী বন্দোবস্ত দিয়া দেন। ফলে আমরা উক্ত ভূমি স্থায়ী বন্দোবস্ত স্বত্ত¡ দখল সমজিয়া পাইয়া নিজ নামে নামজারী করিয়া সন-সন খাজনাদী আদায় করিয়া আসিতে থাকি।

বর্তমানে আর,এস জরীপে আশু রবিদাসের নামে আর,এস পর্চা হয়। এলাকার কিছু ভুমিদস্যু নিরীহ, হিন্দু সংখ্যালঘু মনে করিয়া তাদের ৩৪ শতক ভুমি হতে ৩ শতক ভুমি জবরদখল করিয়া নিয়া যাইবার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকী দিয়া আসিতে থাকে এবং উক্ত ভূমি জোরেবলে দখল করিয়া নিলে সরকার বাহাদুরের হস্তক্ষেপে তাহারা তাহা ফেরত পায়। পুর্বে ভুমিদস্যুরা সহকারী জজ মাধবপুর আদালতে ৫৪/২০০৪ মামলা দায়ের করিলে তা খারিজ হয়। পরে নাজমা বেগম বাদী হয়ে মাননীয় সহকারী জজ আদালত মাধবপুরে স্বত্ব মামলা নং-১১/২০১৯ইং দায়ের করে ও নিষেধাজ্ঞা চায়। পরে শুনানী হইয়া আদালত নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে আশু রবিদাস বিবাদীগন কর্তৃক অবৈধভাবে স্থাপিত টং দোকান ঘর উচ্ছেদ করিয়া দখল পাওয়ার নিমিত্তে জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ বরাবরে বিগত ২০/০১/২০২০ইং তারিখে আবেদন করিলে জেলা প্রশাসক মহোদয় এর আদেশক্রমে সহকারী কমিশনার (ভূমিঃ) মাধবপুর বিগত ১৫/০২/২০২০ইং তারিখে দোকান ঘর উচ্ছেদ করিয়া দেন এবং বলেন ১৭/০২/২০২০ইং তারিখের মধ্যে নালিশা ভূমি একেবারে খালি করিয়া দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। আশু রবিদাস ১৭/০২/২০২০ ইং তারিখে মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

পরবর্তীতে ভুমিদস্যুরা মিথ্যা উক্তিতে ১৮/০২/২০২০ইং তারিখে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে দ্রæত বিচার আইনে ০৪/২০২০ইং নং মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত উচ্ছেদ কার্য্যক্রমটি সরকারী ভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমিঃ) মহোদয় মাধবপুর পরিচালনা করিলেও সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বিগত ০৮/০৩/২০২০ইং তারিখে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন উক্ত ০৪/২০২০ইং নং দ্রæত বিচার আইনের মামলার বাদী মোছাঃ নাজমা বেগম এর বসত ঘর ও টং দোকান শাহপুর পুরান বাজারে অবস্থিত।

আরো উল্লেখ করেন বিগত ১৫/০২/২০২০ইং তারিখে সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকা হইতে বিকাল অনুমান ৫.০০ ঘটিকা পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমিঃ) মাধবপুর, হবিগঞ্জ মহোদয়ের নেতৃত্বে মাধবপুর থানাধীন শাহাপুর নতুন বাজার হইতে শাহপুর পুরান বাজার পর্যন্ত সরকারী খালে অবৈধ দখলে থাকা স্থাপনা ও বসতি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু তদন্তে উল্লেখ করেন যে, উক্ত উচ্ছেদ অভিযান শেষে অভিযোগে বর্ণিত বিবাদী জামাল, আশু রবিদাস, বাবুুল রবিদাস, বাদল রবিদাস, অনীল রবিদাস বাদীর আরজিতে তপশীল বর্ণিত ভূমিতে নির্মাণকৃত কয়েকটি টিনসেড আধা পাকা ঘর, টিনসেড ঘর, আধাপাক্কা ঘর সহ দুইটি টং দোকান ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেন মর্মে অসত্য প্রতিবেদন দিলে আশু রবিদাস গং ৫ জন প্রায় ২ সপ্তাহ হাজতবাস করেন। পরবর্তীতে তাহারা উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন সংশোধন ও শ্মশানের ভুমি পুনরুদ্ধার এবং ১৭/০২/২০২০ইং তারিখের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুমি দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপার হবিগঞ্জ বরাবরে একাধিক আবেদন করেন।

পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্কেল এ এসপির নিকট প্রেরন করেন। পরে এ এসপির সাথে কয়েকবার দেখা করে প্রতিকার চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে মাধবপুর থানার ওসির সাথে দেখা করতে বলেন। ওসির সাথে কয়েরবার দেখা করলে ওসি ঐ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে নতুন করে অভিযোগ দিতে বলেন এবং আবার এ এসপি সার্কেলের সাথে দেখা করতে বলেন। এসব বিষয়ে আশু রবিদাস বার ধর্না দিয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে আশু রবিদাস ও তার স্বজনদের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আশু রবিদাস বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে পরবর্তীতে মাধাবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার,বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি,জেলা ও উপজেলা কমিটি,উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদ,জাতীয় হিন্দু মহাজোট,হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর পুনরায় আদেবন করেন।

উল্লেখ্য যে ইতিপুর্বে উক্ত ভুমিদস্যু চক্র পানছড়ি মৌজার এস এ ১৩৮ ও ১৪৩ দাগের ১ একর ২০ শতক শ্মশানের ভুমি জোর পূর্বক দখল করে নেয়।

এ ব্যাপারে নিরীহ অসহায় সংখ্যালঘু আশু রবিদাসের পরিবারের নিরাপত্তাসহ ভুমি পুনরুদ্ধার করতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।