আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইলিশ সঙ্কট বরিশালে, খালি হাতে ক্রেতাদের বাড়ি ফেরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ হয়েছে।

 

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ইলিশ শিকার, পরিবহন,বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ বন্ধের আগের দিন কম দামে বেশি ইলিশ কিনে থাকেন উচ্চ থেকে শুরু নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

 

কিন্তু গতকাল বরিশালে পাইকারি মৎস্য কেন্দ্রে ইলিশের আমদানি কম থাকায় হাজারো মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরেছে। স্বাভাবিক বাজারের তুলনায় গতকাল ইলিশের আকার ও মান ভেদে দাম বেশি থাকায় খুশি আড়ৎদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এদিকে বাজারে ইলিশের আমদানি না থাকাকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলে সাধারণ মানুষ উল্লেখ করেন।

 

সরেজমিনে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন হাট ঘুড়ে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন মাসের বাজারের বিকেল থেকে গভীর রাত পযর্ন্ত হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় করে ইলিশ কেনার জন্য।

 

সন্ধ্যা পর্যন্ত ইলিশের দাম স্বাভাবিক বাজারের মতো থাকলেও সন্ধ্যা থেকে আকার ও মান ভেদে দুই থেকে তিন শ টাকা দাম বৃদ্ধি পায়। আর রাত ১০টা বাজতে না বাজতেই ইলিশের সংকট দেখা যায় পাইকারি বাজার পোর্ট রোড থেকে শুরু নগরীর বিভিন্ন মাছের বাজারে। তার পরেও মধ্য রাত পর্যন্ত দেখা যায় ইলিশের বাসায় পোর্ট রোডের পাইকারি বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

 

মাছের বাজারে আসা লোকজন জানান, গত বছরে বাজারগুলোতে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইলিশের দাম চড়া থাকলেও রাত ১টার পরে আকার ও মান ভেদে ইলিশের দাম ছিল ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। আর এ বছর সেই চিত্র উল্টো।

 

সন্ধ্যা পর্যন্ত আকার ও মান ভেদে ইলিশ কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত থাকলে রাত ৮টার পরে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে কেজিপ্রতি দাম দাঁড়ায় ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। আর রাত সাড়ে ১০টার পরে বাজরগুলোতে ইলিশের সংকট দেখা দেয়। ১২টার পরে ইলিশশূন্য হয়ে পড়ে বাজারগুলো।

 

নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দার গোলাম সরোয়ার জানান, গত বছর প্রথম দফায় ইলিশের দাম চড়া থাকলেও মধ্য রাতে ইলিশ বিক্রি হয়েছিল বলতে গেলে পানির দামে। আর এবারের চিত্র উল্টো।

 

সন্ধ্যায় পর্যন্ত স্বাভাবিক বাজারে দাম থাকলেও রাত ৮টার পরে ইলিশের দাম চড়া হয়ে যায়। গত বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী রাত ১টার দিকে পোর্ট রোডে এসে দেখি ইলিশ মাছ নাই। এ বাজারে এসে ইলিশ না পেয়ে হাজার হাজার মানুষ খালি হাতে ফিরে গেছে।

 

ব্রান্ড কম্পাউন্ড রোড এলাকার বাসিন্দার তারিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর পোর্ট রোড এলাকার খালে প্রায় অর্ধশত ফিসিং বোর্ড ছিলো। লঞ্চঘাট মোড় থেকে পোর্ট রোড ব্রিজ পর্যন্ত শতাধিক ট্রাকভর্তি ইলিশ ছিল।

 

সকাল ৬টা পর্যন্ত ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। এ বছরে সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি ফিসিং বোর্ড এসেছে। কুয়াকাটা, কলাপাড়া, পাথরঘটার ট্রাক ভর্তি ইলিশ আসলো না কেন? এর পেছনে ব্যবসায়ীদের ইলিশ নিয়ে কারসাজি আছে। তা না হলে অবরোধের এই সময়ে এত কম ইলিশ আসার কথা নয়। বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা দরকার।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পোর্ট রোডে একাধিক ইলিশ ব্যবসায়ী জানান, অবরোধ শুরুর আগের দিন যে পরিমাণের ফিসিং বোর্ড ও ট্রাক ভর্তি ইলিশ আসার কথা ছিল তা আসেনি। বিশেষ করে স্বাভাবিক সময়ে যে কয়টা বোর্ড আসতো, তার অর্ধেকও গতকাল বরিশালে আসলো না। তাহলে সেগুলো কোথায় গেল? অবশ্যই এর পেছনে কোনো কারণ আছে।

 

খুচরা ব্যাসায়ী মানিক হাওলাদার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরে ৮ থেকে ১০ গুণ ইলিশ কম এসেছে। দামও কিছুটা বেশি থাকায় ব্যাসায়ীদের ভালো লাভ হয়েছে। গত বছর যেখানে এক রাতে ৮-১০ মণ ইলিশ বিক্রি করেছি এবছর সেখানে দুইমন ইলিশও বিক্রি করত পরিনি।

 

রাতে বরিশাল মৎস্য আড়তদার সমিতির দায়িত্বশীলদের না পাওয়ার কারণে গতকাল কি পরিমাণের ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে তার পরিসংখ্যানসহ তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।